শিরোনাম
রাঙ্গামাটিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনপার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি বাঙালি সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করেই চলার পথ সুগম করবেরামগড়ে বিএনপি’র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‌্যালী ও আলোচনাসভাকাপ্তাইয়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিতলংগদুতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিতনতুন পরিষদ কোনো নির্দিষ্ট দল, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়কাপ্তাইয়ে ১১ আরই ব্যাটালিয়নের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানকাপ্তাইয়ে যুব উন্নয়নের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণগানে গানে দ্রোহ-মানবতার বার্তা নজরুল বর্ষেখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা

মেডিকেল বোর্ড সদস্যদের মুখে হাসি

৪৫ কেজি ওজনের টিউমার নিয়ে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরলো বীনা

১০২

॥ খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি ॥

রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার গঙ্গারামমূখ গ্রামের বাসিন্দা বীণা চাকমা পেটের টিউমার অপসারণ করার পর মৃত্যুর দূয়ার থেকে ফিরেছে বলে জানিয়েছে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের ডাক্তারগন। গত ১৯ জুলাই সফল অপারেশনের পর বীণাকে নিয়ে তাঁদের দুশ্চিন্তা কেটে গিয়ে সবার মূখেই হাসি ফুটলো। সুস্থ বীণাকে আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্রও দেয়া হয়েছে।

হাসপাতাল সুত্র জানায়, বীনা চাকমা (২২), গ্রাম: গঙ্গারাম মুখ, বাঘাইহাট, বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। তারা তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। বীনা চাকমা গত ১০-১২ বছর ধরে জটিল রোগ ওভারিয়ান টিউমার রোগে ভুগছিলেন। রোগটি মারাত্নক হওয়ায় গত ৫-৬ বছর সে শয্যাশায়ী ছিলো। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের সন্তান বীনা চাকমা’র চিকিৎসা চলছিল বৈদ্যের মাধ্যমে। বৈদ্যের চিকিৎসায় কোন উপকার পায় নি বরং দিন দিন খারাপই হয়েছিল। এরই ফাঁকে তার বাবা’র মৃত্যু হয়। বাড়িতে থাকতেন তার মা আর বীণা। মা বয়সের ভারে ন্যুজ, বাকি ভাই বোনেরা নিজ নিজ সংসার নিয়ে আলাদাভাবে বসবাস করছিলেন। বীনা চাকমা’র মৃত্যু নিশ্চিত তাই বাঁচানোর চেষ্টায় তাঁর বোনর স্বামী নিকুঞ্জ বিহারী চাকমা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বীণার চিকিৎসার সাহায্যের আবেদন জানালে টিকো চাকমা, সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখাসহ কয়েকজন হৃদয়বান ব্যক্তির সাথে সমন্বয় করে রোগীকে খাগড়াছড়ি আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। গত ১৪ জুন গঙ্গারাম মুখ এলাকায় এম্বুলেন্স পাঠিয়ে বীনা চাকমাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
হাসপাতাল সুত্র জানায়, ভর্তির সময়ও রোগীর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন ছিল। রক্তস্বল্পতা, অপুষ্টিসহ নানান জটিলাত। ডা. জয়া চাকমা এর নেতৃত্বে ২০ জুন একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে গাইনী, সার্জারি, মেডিসিন, অর্থোপেটিক, এ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসকরাও ছিলেন। সকল পরীক্ষা নিরীক্ষার পর গত ৭ জুলাই অপারেশন করা হয়। অবশেষে মৃত্যু পথযাত্রী বীণার পেট থেকে ৪৫ কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়। চিন্তিত মেডিকেল বোর্ড সদস্যদের মুখে হাসি ফুটলো।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খাগড়াছড়ি আধুনিক হাসপাতালের ইতিহাসে এটা স্মরণীয়। সীমাবদ্ধ সরঞ্জাম নিয়ে এতো জটিল অপারেশন সম্ভব হয়েছে একমাত্র টিম ওয়ার্কের কারনে। ডাক্তার, নার্স সহ অন্যান্যরা সকলেই দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে এসেছেন। ডাক্তারদের প্রতি রোগীর আত্মীয় স্বজন আস্থা রেখেছেন। আনন্দিত ডাক্তারড়গণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে ছাড়পত্রও দেন।

সিভিল সার্জন ডা. নুপুর কান্তি দাশ বলেন, মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের কিছুটা হলেও অবহেলা ছিলো। না হলে এতো দীর্ঘ সময় ধরে একজন রোগী শর্য্যাশায়ী থাকার কথা নয়। বীনা চাকমার প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে চিকিৎসকরা কিছু উপহার তার হাতে তুলে দেয়। বীণাও খুশি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ বলেও সে জানায়।