॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি বলেছেন, আগের ফ্যাসিস্ট সরকার ভোটের রাজনীতি না করে খুন, গুম, অবিচার, জেল, জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছিল। দেশের প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দীর্ঘ ১৭ বছর অকার্যকর করে রেখেছিল। আমরা বিরোধী দলে থাকা অবস্থায়ও অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে ছিলাম এবং আজীবন থাকব। বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তার সরকার সবসময়ই থাকবে।
রবিবার (১৯জুলাই) খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার চৌংড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আয়োজিত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রাণ বিতরণকালে খাগড়াছড়ি জেলা হতে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইঞা, এমপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফলিকা ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত, রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ সহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার দেশ ছেড়ে পালানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিন্তায় ও মননে রয়েছে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ যাতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেজন্য ওএমএস এর কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি বাজারে স্বল্পমূল্যে খোলা বাজারে চাল আটা বিক্রয় ওএমএস কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন। স্বল্প মূল্যে সরকারের এই কর্মসূচি দেশব্যাপী শুরু হবে আগামী আগস্ট মাস থেকে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করেন। এসময় গণমাধ্যমকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খোঁজখবর রাখছেন। বিপদে আপদে তাদের পাশে আছেন এবং কিভাবে ঘুড়ে দাঁড়াতে পারে সে ব্যাপারে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্বও দিচ্ছেন।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, যারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাসে মাসে কিস্তি দেন তাদেরকে নুন্যতম এক মাসের কিস্তি সুদ সহ মওকুফ করতে সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের তালিকা করে সরকার সহায়তা করবে। সরকার পার্বত্য তিন জেলায় ১৩০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৬০ লক্ষ টাকা বিতরণ করেছে। আগাম আশ্রয়কেন্দ্র খোলায় অনেক জানমাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে সরকারের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে।