॥ মোঃ ইসমাইল, পানছড়ি ॥
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) প্রসীতপন্থী সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে পড়েছে বলে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও স্থানীয় সুত্রগুলো জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে উপজেলার জগপাড়া, তারাবন এলাকা ও দুধুকছড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়। ৪ সেপ্টেম্বর ভোর থেকেও এসব এলাকায় নতুন করে থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। সর্বশেষ ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্তও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সুত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই পানছড়ির বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ কয়েক দিনের সংঘর্ষকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
গোলাগুলির কারণে সংঘাতপূর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রাণভয়ে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি গৃহপালিত পশুপাখি ও বসতবাড়ি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাতের প্রভাবে অনেক এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ও দৈনন্দিন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উভয় পক্ষের সমর্থক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাইবার গ্রুপ থেকে হতাহত এবং সংঘর্ষের বিষয়ে নানা দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব দাবির স্বতন্ত্র যাচাই সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হতাহত বা সংঘর্ষের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে পাহাড়ের জনপদে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। তাদের মতে, এ ধরনের সংঘাত অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় পানছড়ির ঝুঁকিপূর্ণ ও কৌশলগত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপত্তা চৌকি ও সেনা ক্যাম্প স্থাপন এবং নিয়মিত টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।