অবশেষে দুই দিন পর কাপ্তাই হ্রদেই মিলল ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতির মরদেহ
॥ কাপ্তাই উপজেলা প্রতিনিধি ॥
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে নিখোঁজ বিএনপি নেতা মোঃ মাসুদের (৫৩) মরদেহ। তিনি কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ব্যবসায়ীক কাজে বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া থেকে নদীপথে ফেরার সময় হ্রদযন্ত্রেক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি হ্রদে পড়ে গেলে এ দূর্ঘটনা ঘটে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
রবিবার (২০ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাপ্তাই ইউনিয়নের গর্জনটিলা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা হ্রদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
ফায়ার সার্ভিস টিম লিডার রেজাউল করিম জানায়, উদ্ধার করা মরদেহটি আইনানুগ কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য কাপ্তাই থানা পুলিশের কাছে হস্তাস্তর করা হয়েছে। এর আগে ব্যবসায়িক কাজে বিলাইছড়ি ও ফারুয়া থেকে নিজস্ব নৌকায় কাপ্তাই ফেরার পথে মোঃ মাসুদ নিখোঁজ হন বলে পরিবারের পক্ষে জানানো হয়েছিল। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা কাপ্তাই জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাকে উদ্ধারে তৎপরতা চালিয়ে আসছিল।

অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর (রবিবার) ভাসমান অবস্থায় কাপ্তাই হ্রদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও কাপ্তাই উপজেলা পরিষদেও সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন জানান, বিএনপি নেতা মাসুদকে নিখোঁজ এর পর হতে নদীতে জাল ফেলে হন্যহয়ে খুজার পর তাঁর লাশ দু’দিন পর পেয়েছি। ধারনা করা হচ্ছে হৃদযন্ত্রেক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি নদীতে পড়ে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যান। কাপ্তাই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল হাকিম জানান, মাসুদ এর লাশ হ্রদে ভাসমান অবস্থায় পেয়েছি। লাশের বিষয়ে অন্য কোন অভিযোগ নেই বলে জানান। মৃত মাসুদের ছোট ভাই মাসুম জানান, আমরা লাশ ভাসমান অবস্থায় পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে কারোর বিরুদ্ধে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিকাল ৫টায় বিএনপি নেতা মাসুদের লাশ জানাজা শেষে লক্ষ্মীপুর জেলার নোয়াহাট গ্রামে নেয়া হয়।
কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাদুল হাসান রুবেল (ওসি) জানান, আমরা লাশ তদন্ত করে দেখেছি, এবং যা বুঝতে পারলাম , হঠাৎ করে মাসুদ স্ট্রোক করে পানিতে পড়ে গিয়ে দূর্ঘটনার স্বীকার হন। তবে তার পরিবারের পক্ষ হতে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।