শিরোনাম
মানবিক মূল্যবোধের বিকাশেই একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে: মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীখাগড়াছড়ির পানছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু, বিজিবি’র সদস্য আহতবান্দরবানের লামায় ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার এলজিইডি’র সড়কের উন্নয়ন কাজ ব্যাপক অনিয়মে ?দুর্গম পাহাড়ে বঞ্চিত বহু মানুষের চিকিৎসা সেবায় মাটিরাঙ্গা সেনা জোনবাঘাইছড়িতে সেনা জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ প্রদানবান্দরবানের লামায় কৃষক পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগরাঙ্গামাটিতে দূর্গাপ্রতিমা বিসর্জন হলো সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ভক্ত অনুরাগীদের অশ্রুনয়নেকাপ্তাই বাঁশকেন্দ্র জামে মসজিদটি পূর্ণ সংস্কার করে দেওয়া হোকখাগড়াছড়ির রামগড়ে পুজামন্ডপ পরিদর্শনে ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমপিদুর্গাপূজা উপলক্ষে রামগড়ে ৫০ অসহায় নারীকে শাড়ি প্রদান

অস্থায়ী বেইলি ব্রিজেই ৩ বছর পার কাপ্তাই ব্যাঙছড়ি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে কবে

১৪

॥ কবির হোসেন, কাপ্তাই ॥
রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ব্যাঙছড়ি এলাকায় নির্মাণাধীন পাকা সেতুর কাজ পাইলিং জটিলতায় প্রায় তিন বছর পড়ে আছে। ঝুঁকিপূর্ণ অস্থায়ী বেইলি ব্রিজ দিয়েই প্রতিদিন শত শত ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করছে। জনসাধারনের প্রশ্ন অস্থায়ী বেইলি ব্রিজেই তিন বছর পার ব্যাঙছড়ি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে কবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যাঙছড়ি এলাকার পুরোনো কালভার্টটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সেখানে নতুন পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। নির্মাণকাজ শুরু হলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পাশে একটি অস্থায়ী বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পাইলিং-সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে মূল সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

কাপ্তাই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা হওয়ায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এখানে আসেন। পাশাপাশি স্থানীয় ও দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বেইলি ব্রিজটি ব্যবহার করতে গিয়ে ঝুঁকি ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ছে। স্থানীয় সিএনজি চালক আবু বক্কর ও গিয়াস উদ্দিন, মোটরসাইকেল আরোহী পাইসু মারমা এবং ট্রাকচালক জব্বার বলেন, পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার পরিবর্তে নতুন পাকা সেতু নির্মাণ শুরু হওয়ায় তারা আশাবাদী হয়েছিলেন। দ্রুত কাজ শেষ হলে নিরাপদে যানবাহন চলাচল করবে এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ তিন বছর যাবত কাজ বন্ধ থাকায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সংস্কার না করার ফলে সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে একাধিকবার দূর্ঘটনায় পড়তে হয়েছে বলে চালকগন অভিযোগ করেন। চট্টগ্রাম জেলা বাস-মিনিবাস সমিতির সভাপতি নুর হোসেন জানান, দীর্ঘদিনেও পাকা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। দ্রুত কাজ শেষ করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।

দক্ষিণ চট্টগ্রাম ট্রাক সমিতির সভাপতি মির্জা নাজিম উদ্দীন খোকন বলেন, পাকা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। কাজ বন্ধ থাকায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি সহ যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তিও হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইরফান উল করিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে পাইলিং জটিলতার কারণে কাজের মেয়াদ বাড়ানোর (ওয়ার্ক এক্সটেনশন) প্রয়োজন হয়েছে। নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, কয়েক মাস ধরে তিনি বেতন পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় নির্মাণস্থলে রাখা রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীও পড়ে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত পাইলিং জটিলতা নিরসন করে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা হলে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজের ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে কাজটি সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। দ্রুতই নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হবে।