রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি)’র নতুন ভিসি ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম
॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদান করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২৮জুলাই) পূর্বাহ্নে যোগদান করেন।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে নবনিযুক্ত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম মহোদয়কে ফুল দিয়ে স্বাগত ও অভিনন্দন জানান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, প্রক্টর, হল প্রভোস্ট, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজসমূহ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি রাবিপ্রবি’র সার্বিক বিষয়াদি অবহিত হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সমৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার আশা ব্যক্ত করেন। পরে নতুন ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।
রাবিপ্রবি সুত্র জানান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট’ থেকে ‘মেরিন বায়োডাইভার্সিটি এন্ড এনভায়রনমেন্ট’ বিষয়ে গবেষণা করে ২০১২ সালে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট’ এর ‘সমুদ্র বিজ্ঞান’ (মেরিন সায়েন্স) বিভাগ থেকে এম.এস.সি (স্নাতকোত্তর) এবং ১৯৯৬ সালে বি.এস.সি (সম্মান) সম্পন্ন করেন। তিনি ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট’ এ লেকচারার হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত হন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সমুদ্র বিজ্ঞান ও ফিশারিজ’ অনুষদের ডিন, ‘সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট’ এর পরিচালক এবং শাহজালাল হলের হাউজ টিউটর হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সামুদ্রিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও প্রশমন, পরিবেশগত স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, ইকোটক্সিকোলজি, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলাভূমির বাস্তুবিদ্যা বিষয়ক পনেরটির অধিক গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেন এবং দেশে-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ-সেমিনারে যোগদান করেন।
তিনি বঙ্গোপসাগর ও কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বাদু পানির নদ-নদীতে ও উপকূলীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান, সামুদ্রিক অমেরন্ডী প্রাণী, সামুদ্রিক দূষণ, মানব স্বাস্থ্যের ঝুঁকি, পরিবেশ দূষণের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন-প্রশমন-সামাজিক অভিযোজন, সামুদ্রিক বাস্তুুতন্ত্রে প্লাস্টিক, সেন্টমার্টিন দ্বীপে সমুদ্রসৈকতে দূষণ ও টেকসই পর্যটন, ব্লু-ইকোনমি (সমুদ্র অর্থনীতি), নদী-ভূপৃষ্ঠের জল ও পলিতে ভারী ধাতুর দূষণ, শিল্পায়নের দূষণ, টেকসই জীবিকার জন্য ক্ষুদ্র পরিসরে মিঠা পানির চিংড়ি চাষ, খাদ্যশস্যে কীটনাশকের ব্যবহার, উপকূলীয় প্রাকৃতিক সম্পদের মানচিত্র প্রণয়ন, মহাসাগরের উষ্ণায়ন, সামুদ্রিক আইন-নীতিমালা এবং খাদ্য প্রযুক্তিসহ বিবিধ বিষয় সংক্রান্ত তাঁর প্রায় চুরাশিটির অধিক গবেষণা প্রবন্ধ দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়।
উল্লেখ্য যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের স্মারক নং- ৩৭.০০.০০০০.০৭৬.১১.০০৪.২২-১৫৮ মোতাবেক মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর-এঁর অনুমোদনক্রমে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১ এর ১২ (১) ধারা অনুযায়ী তাঁকে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার (০৪) বছরের জন্য তাঁকে এ পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।