॥ মুবিনুল হক মুবিন, নাইক্ষ্যংছড়ি ॥
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম সীমান্তে একই দিনে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ইয়াবা পাচারের সাথে জড়িত এক রোহিঙ্গা যুবককে গ্রেফতার করা হলেও অস্ত্র পাচারের সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্র জানায়, ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার আনুমানিক রাত ২ টার দিকে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) ঘুমধুম সীমান্ত পিলার-৩২ থেকে ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জামালের ঘের এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় সন্দেহজনকভাবে একজন পথচারীকে তল্লাশি করা হলে তার সাথে থাকা ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করে। আটককৃত হলো রোহিঙ্গ্যাদের আবাসন এফডিএমএন ক্যাম্প-১ এর এফ ১৩ নং ব্লকের বাসিন্দা অলি আহমদ এর ছেলে নুর মোহাম্মদ (২০)। অপরদিকে ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) দুপুর ১২.৪০ মিনিটের সময় একই সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি সুত্রে জানায়, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি র দিকনির্দেশনায় ঘুমধুম বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে, এসময় একই এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল পড়ে থাকতে দেখে বিজিবি সদস্যরা। পরে সেটি উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় অস্ত্রটি পাচারের সাথে কাউকে দেখতে না পাওয়ায় আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি সুত্রে আরো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের দূর্গম এলাকা ব্যাবহার করে কয়েকটি চোরাকারবারি চক্র মায়ানমারের চোরাকারবারিদের সাথে যোগসাজশে অবৈধ অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান করে আসছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত নজরদারি ও অভিযানে জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবারের অভিযানে বার্মিজ ইয়াবা ও বিদেশি পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা বিদেশি পিস্তলটি ও থানায় মামলা দায়ের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে পিস্তলটি হস্তান্তর করা হলে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অস্ত্রটির উৎস ও করা এটি সীমান্ত এলাকায় নিয়ে এসেছে তা তদন্ত করে দেখা হবে।
এলাকার সুশীল সমাজ বলেন, আমাদের সীমান্ত এলাকা এখন মাদক, চোরাকারবারি ও চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। মাদক ও চোরাকারবার ও চোরাচালানের মূলহোতাদের গ্রেফতার করা না হলে ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকায় মাদকের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হবে বলে ধারনা করেন। তারা বলেন আমরা একটি সুন্দর এবং সুস্থ পরিবেশ চাই।