শিরোনাম
স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তায় সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি মাটিরাঙ্গা সেনা জোনেরখাগড়াছড়ির দীঘিনালায় শিক্ষার্থীদের মাঝে জোনের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণলামায় কৃষিপণ্য মার্কেটিং চ্যালেঞ্জ সমাধানে করণীয় বিষয়ক এ্যাডভোকেসী সভাজনগণের ভোগান্তি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না: ভুমি প্রতিমন্ত্রীকাপ্তাইয়ে সাংবাদিকদের নিয়ে জেন্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিতপার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ, রাজনীতিতে ও উন্নয়নে হতাশ রাঙ্গামাটিবাসীওবান্দরবনের থানচির সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করায় ৪৭ খুমী নাগরিক আটকবন্যপ্রানী সুরক্ষায় কাপ্তাইয়ে প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ‘রাখিব চারপাশ পরিষ্কার, করিব ডেঙ্গু প্রতিকার’ কাপ্তাইয়ে সচেতনামূলক র‌্যালিMostbet Bonusları: Cashback’ın Təsiri, Pulsuz Dönüşlər və Kampaniyalar

পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ, রাজনীতিতে ও উন্নয়নে হতাশ রাঙ্গামাটিবাসীও

৩১

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
রাঙ্গামাটি পার্বত্য ২৯৯ আসনের এমপি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান হঠাৎ করেই মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করাতে বিরূপ ও বিদ্রুপ প্রভাব পড়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গনে। তাঁর পদত্যাগ রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দের কারো কারো মাঝে হতাশা দেখা দিলেও অনেকের মাঝে নিরবতাও লক্ষ্য করা গেছে। তবে খবর শোনার পর পরই গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহে আসলে বিএনপি’র জেলা কার্যালয়ে বেশ কিছু নেতাকর্মী হাজির হয়েছিলেন। এতে নেতা-কর্মী,সমর্থক ও জনসাধারণ বিশ্বাস না করলেও পরে বিশ্বাস করতে বাধ্য হন যখন দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগকে তারা মানতে চান না বলে দলীয় কার্য়ালয়ের সামনে বিক্ষোভ করলে।

১ জুন দুপুরে জাতীয় বেশ কিছু টিভি চ্যানেল এবং পত্রিকার অনলাইনগুলোতে যখন সংবাদ প্রচার হচ্ছিল তখনও কেউ কেউ মানতে রাজি নয় যে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান সরকারের মন্ত্রী পরিষদ থেকে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গামাটি ২৯৮ পার্বত্য আসনে এবার বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী সাবেক যুগ্ম জজ দীপেন দেওয়ানকে রাঙ্গামাটি জেলাবাসী বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন, ঠিক একইভাবে ২০০১ সালেও মনি স্বপন দেওয়ানকেও বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছিল রাঙ্গামাটি জেলাবাসী।

জেলা বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর বিজ্ঞ বেশ কিছু নেতারা বলছেন, ২০০১ ও ২০২৬ এ রাঙ্গামাটি আসনে বিএনপির বিজয় এর দুটি সময়ই ভিন্ন ভিন্ন, কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে জনগনের বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য হওয়া এবং মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পাওয়ার ভাগ্যে শুধু বিজয়ী ব্যক্তি নয় এখানে জনগনের বিজয়টাও জড়িয়ে রয়েছে। নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর বিএনপি সরকারের সোয়া তিন মাসের মাথায় মন্ত্রী পরিষদ থেকে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ সরকারের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। জনগনের যে আখাঙ্খা ছিল তাঁর পদত্যাগ সেই আখাঙ্খাকেও আছঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার মতো হয়েছে। দীপনে দেওয়ানের পদত্যাগের বিষয়ে দলীয় কোন সীদ্ধান্ত ছিল কিনা সেটার দিকে মানুষের নজর তেমন নেই কিন্তু তিনি মানুষকে হতাশায় ফেলেছেন বলেও তারা মনে করছেন। তবে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ চাপের মধ্যে করতে হয়েছে অথবা করানো হয়েছে দাবি করে রাঙ্গামাটির জেলার উপজেলাগুলোতে দীপনে দেওয়ানকে স্বপদে পূঃনর্বহালের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন দলের তৃণমুল নেতৃবৃন্দরা। তবে এসব দাবি উঠার আগেই জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় থেকে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে। কিন্তু জেলা উপজেলার নেতাকর্মীরা এসব কিছুই মানতে রাজি নয় তারা চায় তাদের মন্ত্রী পুঃনর্বহাল হোক।

এদিকে জেলা বিএনপির বেশ কিছু নেতা বলছেন, জেলা পরিষদগুলো গঠন এবং দলীয় যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের পরিষদের দায়িত্বে বসানো নিয়ে শুরু থেকেই খুব জটিলতা দেখা যাচ্ছিল। রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি দীপন তালুকদার দীপুকে চেয়েছেন বিএনপি পরিবারের অনেকেই, কিন্তু বিভিন্ন কারনে মন্ত্রী তাঁকে দিতে নারাজ তাই তিনি চেয়েছেন কর্ণেল (অব) মনিষ দেওয়ানকে অথবা মানস মুকুর চাকমাকে বসাতে। দলীয় প্রভাবের চাইতেও মনিষ দেওয়ান একজন মুক্তিযোদ্ধা যিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর সাথে স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন অপর জন তাঁর ঘনিষ্ট আত্মীয় হন। তবে তারা দাবি করেন মন্ত্রীর পছন্দের এ দুই ব্যক্তি বিএনপির রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ছিলেন না, মানস মুকুর চাকমাকেতো তেমন দেখাই যেতো না কিন্তু তারা দলের পদে ছিলেন এটাও ঠিক। তবে কর্ণেল মনিষ দেওয়ান তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান তাঁকে বসাতে চেয়েছেন অন্য দিকে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মীর হেলাল চেয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপুকে বসাতে, মূলত এটাই মূল সমস্যা বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু মনিষ দেওয়ানের ফেসবুক পেজের উল্লেখিত বিষয়াদিগুলো বক্তব্য শব্দ চয়ন আদো দলীয় শৃঙ্খলায় পড়ে কিনা অনেকেই প্রশ্ন রাখছেন।

অপর দিকে রাঙ্গামাটি জেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিজ্ঞ এবং বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক মাঠে বিভিন্ন ঝড়তুফান থাকবেই। বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে যে প্রতিহিংসার রাজনীতির চর্চা হয় তাতে এসব চর্চাগুলোকে পাশ কাটিয়ে টিকে থাকাই হলো বড় চ্যালেঞ্জ তার মধ্যে খুবই সেনসেটিভ হলো আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম। এখানে রাজনৈতিক নানান পরদের হিসাব নিকাশগুলোও যেন খুবই কঠিন। যেটি পার্বত্য চুক্তির পর অনেকটা রাতারাতি রাজনৈতিক পরিবেশটাও পাল্টে গিয়েছে। তাই রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর মাঠে সমন্বিতভাবেই এগিয়ে নিতে হয়। এখানে সবকিছু খুবই ঠান্ডা মাথায় এবং ধৈর্য্য, সহিষ্ণু ও বিচক্ষনতার মধ্যে ক্ষমতার দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং অনেকেই করে এসেছেন। দীপনে দেওয়ান সাবেক যুগ্ম জজ হিসেবে তিনি আইনসিদ্ধ ব্যক্তি তবে এখানে রাজনৈতিকভাবে তিনি যথেষ্ট বিজ্ঞও নয়। তাঁর দায়িত্বে আগে শতভাগ ন্যায়টিকেই প্রাধান্য দিতে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দলের নেতাদের পদায়নে মেনে নেওয়া মানিয়ে নেওয়ার বিষয়েও যদি বেশি কঠোর হন তাহলে এগিয়ে যাওয়াও কঠিন হবে, তাঁর বেলায় মনে হয় তাই হয়েছে। তবে মনিস্বপন দেওয়ানও তাঁর সময়ে রাজনীতির মারপ্যাঁচ কৌশলে পার করে গিয়েছেন এবং দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা সহ সকল উন্নয়ন একহাতেই পরিচালনা করেছেন। বিএনপিতে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি শষ্যের ভিতর ভুত দমন করেছেন রাজনৈতিক নানান কৌশলে। কারণ তিনি বুঝে ছিলেন শুধু দলের নয় তার বাইরেও রাজনৈতিক বৈদ্য-ওজা চেলাচামুন্ডুরা তাকে সরাতে পিছনে অদৃশ্য লাইন ধরেছিলেন। কিন্তু তাঁকে বেকায়দায় ফেলতে পারেনি কেননা তিনি ইউনিয়ন পর্যায় থেকে রাজনীতি করে আসছেন। এবারে পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ, রাজনীতিতে ও উন্নয়নে হতাশ রাঙ্গামাটিবাসীও।