শিরোনাম
সরকারি মাতামুহুরী কলেজের শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবিতে ৭২ ঘন্টার আলটিমেটামখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ওএমএসের পন্য বিক্রি শুরুখাগড়াছড়ির রামগড়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিজিবির মানবিক সহায়তারাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে সরকারী নির্দেশ অমান্য করে ঋণের কিস্তি আদায়রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে ৩৮ বোতল দেশীয় কেয়ারু মদ জব্দলামায় জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিতসরকারের প্রধান লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা: দীপেন দেওয়ানকফি ও কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ জরুরিপার্বত্য এলাকার উন্নয়নে সরকারের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালঅবশেষে দুই দিন পর কাপ্তাই হ্রদেই মিলল ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতির মরদেহ

রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে সরকারী নির্দেশ অমান্য করে ঋণের কিস্তি আদায়

॥ রাজস্থলী উপজেলা প্রতিনিধি ॥
সারা দেশের ন্যায় রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে আগামী তিন মাস ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)। একই সঙ্গে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন, প্রয়োজনে দুর্যোগকালীন গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতারা অভিযোগ কওে জানায়, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এই নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলায় বন্যাকবলিত এলাকায় নিয়মিত ঋণের কিস্তি আদায় অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।

এমআরএর পরিচালক (লাইসেন্স, রেগুলেশন, পলিসি অ্যান্ড ল বিভাগ) মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান স্বাক্ষরিত সার্কুলার লেটার নং-৮৫-এর মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা সার্কুলারে চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলীকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)র নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত তহবিল থেকে জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে হবে। পাশাপাশি বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমেও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে। গত কয়েক দিন আগে কিস্তি আদায় বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউছুপ হাসান এর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। সভায় তিন মাস পর্যন্ত কিস্তি আদায় স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিলেও তারা কিস্তি আদায় অব্যাহত রেখেছে।

আলোচনায় ইউএনও বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ঋণের কিস্তি আদায় আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখতে হবে। পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্যোগকালীন ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো গ্রাহকের সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত চাইলে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে ব্র্যাক, পদক্ষেপ, আইপিএফ, সহ প্রচুর এনজিও সংস্থা রাজস্থলী উপজেলায় ঋন বিতরণ করে আসছে।

এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বন্যাকবলিত এলাকায় কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে বড়ইছড়ি কর্মস্থানের এক কর্মী দাবি করেন, তাদের এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ঋণগ্রহীতা কিস্তি দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও কিস্তি আদায় অব্যাহত রাখা হয়। অথচ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাজস্থলীবাসীর অনেক পরিবার এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। কারও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কারও নষ্ট হয়েছে কৃষিজমি ও গবাদিপশু। অনেকের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

বন্যায় ঋণগ্রহীতা মুরগীর ফার্মের মালিক সাদেক বলেন, বন্যায় আমার প্রায় ১৫০০ মুরগী ভেষে গেছে এখন সংসার চালানোই কঠিন। এই সময়ে কিস্তির টাকা কোথা থেকে দেব, সরকার যদি কিস্তি বন্ধ রাখতে বলে থাকে, তাহলে আমাদের ওপর চাপ দেওয়া হয় কেন? এ পরিস্থিতিতে এমআরএর নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন জরুরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।