॥ নিজস্ব প্রতিবেদক, লামা ॥
বান্দরবানের লামা উপজেলায় আদালতের আদেশ অমান্য করে বিরোধীয় জায়গা ও পানির চলাচলের ঝিরিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। লামা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড সাবেক বিলছড়ি এলাকায় জনৈক ইউনুস গং জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণ করলে আদালতের নির্দেশে লামা থানা পুলিশ কয়েকবার নিষেধ করার পরেও বাঁধা মানছেনা বলেও অভিযোগ উঠেছে। এদিকে প্রতিপক্ষ বাঁধা দিলে উক্ত স্থানে আইন শৃঙ্খলা অবনতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।
জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে লামা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড সাবেক বিলছড়ি এলাকায় অসহায় নারী জাহেদা খাতুন (৭০) এর সাথে মোঃ ইউনুস ও মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন গংয়ের মাঝে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই বিষয়ে প্রতিকার পেতে বৃদ্ধা জাহেদা খাতুন লামা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে সিআর মামলা ১২১/২৬ এবং লামা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিপক্ষের অনাধিকার প্রবেশ বারিত করতে পিটিশন মামলা ৩৯/২০২৬ রুজু করে। আদালতের নির্দেশে লামা থানা পুলিশ উভয়পক্ষকে বিরোধীয় জায়গায় না যেতে ও আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নোটিশ জারি করে। কিন্তু পুলিশি বাঁধা ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মোঃ ইউনুস ও মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন গং উক্ত জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে। জাহেদা খাতুন ২৯৩নং ছাগলখাইয়া মৌজার আর/৮৯ নং হোল্ডিংয়ে ২ একর জমির মালিক।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ নোটিশ দেয়ার সময় বিরোধীয় স্থানে কোন স্থাপনা ছিলনা। আর বর্তমানে সেখানে পানির চলাচল পথ বন্ধ করে পাঁকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। জাহেদা খাতুন বলেন, পুলিশ আসলে তারা কাজ বন্ধ রাখে আর চলে গেলে আবার কাজ শুরু করে।
জাহেদা বেগমের ছেলে মোঃ আকরাম জানায়, আমাদের প্রতিপক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন একজন আনসার সদস্য। ঈদের ছুঁটিতে বাড়িতে ভাইদের নিয়ে গায়ের জোরে কাজ করছে। আমরা বাঁধা দিতে গেলে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তাদের লোকবল বেশি হওয়ায় এলাকায় কাউকে মানেনা। আমরা আইনের কাছে গিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছিনা।
এবিষয়ে মোঃ ইউনুস বলেন, আমরা আমাদের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করছি। এখানে জাহেদা খাতুনের কি ? আদালতের আদেশ মানছেন না কেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান।
লামা থানা পুলিশের এএসআই মোহাম্মদ ইসমাইল হোছাইন বলেন, বিরোধীয় জায়গায় উভয়পক্ষ ১৪৫ এর আবেদন করেছে। আদালতের নির্দেশে গত ১৬ মে ২০২৬ইং নোটিশ দেয়া হয়েছে। উভয়পক্ষকে জায়গায় না যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু মোঃ ইউনুস ও মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন গং নিষেধাজ্ঞা মানছেনা। আমরা জাহেদা খাতুনকে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করতে বলেছি।