॥ মানিকছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি ॥
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের উদাসহীনতায় মৃত বাবুল মিয়ার পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ এবং ইউএনও-এসিল্যান্ডকে অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা সদরের আমতল এলাকার চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি থেকে এলাকার যুব সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয় বিক্ষোভ মিছিল। প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার অপসারণ সহ নানা স্লোগানে মিছিলটি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গিয়ে ঘন্টাব্যাপী অবস্থান ধর্মঘট করে অংশ গ্রণকারীরা।
এতে বক্তব্য রাখেন আয়োজক মাসুদ উজ জামান, শাহজালাল পারভেজ, জাহিদ রুবেল ও আবদুল মান্নানসহ আরো অনেকে।
এসময় ইউএনও-এসিল্যান্ডের নানা কর্মকান্ডের কড়া সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, একজন অদক্ষ চালককে দিয়ে জোরপূর্বক জব্দকৃত ত্রুটিপূর্ণ একটি পেলোডার সরাতে বাবুল মিয়াকে বাধ্য করা হয়। প্রশাসনের হেফাজতে নিয়ে আসার সময় পেলোডারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেন বক্তারা। নিহত বাবুলের কোনো হেভি লাইসেন্স না থাকার পরেও তাকে বাধ্য করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা। বর্তমানে তিন সন্তান নিয়ে মৃত বাবুলের স্ত্রীর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। ৩ সন্তানের পড়ালেখা ও তাদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নিহত বাবুল মিয়ার পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ এবং ইউএনও-এসিল্যান্ডকে অপসারণ করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা। পরে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ হাবিবুর রহমান ও সদস্য সচিবের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। একই সাথে দাবী আদায় না হলে আরো কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারিও দেন আয়োজকরা।
উল্লেখ্য যে, গত ১২ই এপ্রিল মানিকছড়ি উপজেলার বাটনাতলী ইউনিয়নের থলিপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার সংবাদ পেয়ে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে পাহাড় কাটায় ব্যবহৃত ১টি পেলোডার জব্দ করা হয়। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল চালক পালিয়ে গেলে স্থানীয় চালক বাবুল হোসেনের সহায়তা নেয়া হয়। এসময় পেলোডারটি সরাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হয় চালক বাবুল হোসেন (৪৫)। সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মানিকছড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৭ই এপ্রিল সকালে তার মৃত্যু হয়।