শিরোনাম
লক্ষ্মীছড়ির দুর্গম জনপদে সেনাবাহিনীর শিক্ষা উপকরণ বিতরণবন্যা ও ভূমিধসে রোয়াংছড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত ৬শত পরিবার পাচ্ছেন নগদ অর্থের সহায়তাবান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ধান চাষ করে কৃষকের মাথায় হাতকাপ্তাই কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে নেমে পর্যটক নিখোঁজপ্রথম আলোর সংবর্ধনায় খাগড়াছড়িতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১০৭ কৃতী শিক্ষার্থীকাপ্তাই ৪নং ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদ শূন্য ভোগান্তি মানুষেররোয়াংছড়িতে কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির অফিস ও কমিউনিটি সেন্টার উদ্বোধনখাগড়াছড়িতে মারমা যুব ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সভাবান্দরবানের লামায় ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় ম্রো শিশুদের টিকাদানশিক্ষকরা মানসিকভাবে ভালো না থাকলে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত সম্ভব নয়

খাগড়াছড়িতে যৌতুকবিহীন বিয়ের আয়োজন করেছে পার্বত্য প্রেসক্লাব

৫৬

॥ খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি ॥

খাগড়াছড়িতে অসহায় এক মেয়ের যৌতুক বিহীন বিয়ের আয়োজন করেছে স্থানীয় পেশাজীবি সাংবাদিকদের অন্যতম সংগঠন পার্বত্য প্রেসক্লাব ও দৈনিক সবুজ পাতার দেশ পত্রিকা। রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে শহরের কোর্ট মসজিদ মাকের্টস্থ’ অস্থায়ী কার্যালয়ে এ বিয়ের আয়োজন করেন সংগঠনটি।

এসময় কাজী মোঃ হাফেজ ইসমাইল হোসেন এ বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করেন। এতে চার লক্ষ টাকা কাবিন নামায় যৌতুক বিহীন এ বিয়ের নায়ক রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যার মাদ্রাসা পাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুর রাজ্জাক এর ছেলে জামশেদ আলম। কনে মোছাম্মৎ সহিদা আক্তার খাগড়াছড়ি শালবনের সাহেব আলীর মেয়ে। বাঘাইছড়ি পৌরসভার সাবেক কমিশনার মোঃ আলাউদ্দিন এবং খাগড়াছড়ি পৌরসভার কমিশনার মোঃ আনোয়ার হোসেন বিয়েতে স্বাক্ষী হিসেবে কাবিন নামায় স্বাক্ষর করেন।

বাঘাইছড়ির বাসিন্দা মৃত আব্দুর রাজ্জাক এর ৪কন্যা ও ১ছেলের মধ্যে জামশেদ চতুর্থ সন্তান। জামশেদের চার বোনের একজন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক, দুইজন বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদে কর্মরত, সবার ছোট চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যে লেখাপড়া শেষ করে চাকুরীর প্রস্তুুতি নিচ্ছেন। জামশেদ স্নাতক পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন।

যৌতুকবিহীন বিয়ের ব্যাপারে জামশেদ বলেন, ‘‘ যৌতুকের জন্য অনেক মেয়েকে যথাসময়ে বিয়ে দিতে পারেন না অভিভাবকেরা। ছোটবেলা থেকে এ ধরনের অনেক ঘটনা তাকে অনেক পীড়া দিতো। তার যথেষ্ট ধন-সম্পদ রয়েছে। এ যৌতুক বিহীন বিয়ে দেখে আরো অনেক যুবক এগিয়ে আসবেন এমন প্রত্যাশা তার। পার্বত্য প্রেসক্লাবের সাংবাদিক ভাইয়েরা এবং তার খালাতো ভাই কামাল হোসেন, বোন লিলি ইসলাম, মিনা ইসলাম, মনি ইসলাম ও সুমা ইসলামের সার্বিক সহযোগীতায় তিনি এ বিয়ে করতে পেরে খুবই আনন্দিত। যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তিনি কনে সহিদা আক্তারের সাথে আজীবন যাতে সুখে শান্তিতে সংসার জীবন অতিবাহিত করতে পারি এজন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।’

 

বিবাহ উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় পার্বত্য প্রেসক্লাবের সভাপতি দেব প্রসাদ ত্রিপুরা বলেন, শুধু সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এধরনের সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করাই পার্বত্য প্রেসক্লাবের মূল লক্ষ্য।

পার্বত্য প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুলহাস উদ্দিন উল্লেখ করেন, করোনা দুর্গত মানুষের মধ্যে খাদ্যশস্য বিতরন, প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানে সহযোগীতা, বেকারদের মধ্যে হাঁস-মুরগী বিতরনের মতো অনেক জনকল্যানমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।

বিবাহ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রতিবন্ধী কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান, রেশম উন্নয়ন বোর্ডের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শংকর চৌধুরী, শালবনের প্রবীন ব্যক্তিত্ব মাওলানা মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও খাগড়াছড়ি রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক চাইথোয়াই মারমা, খাগড়াছড়ি অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মোবারক হোসেন, পার্বত্য প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদস্য সুজন বড়ুয়া, বকুল বিকাশ চাকমা, লোকমান হোসেন, নুর মোহাম্মদ, আশেক উল্ল্যাহ, দৈনিক জনতা পত্রিকার সাংবাদিক ও অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হৃদয় এবং বর কনে উভয় পক্ষের শতাধিক আত্মীয়স্বজন । পার্বত্য প্রেসক্লাব ও দৈনিক সবুজ পাতার দেশ পত্রিকার আয়োজনে দুপুরে প্রীতিভোজের মধ্য দিয়ে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।