বরকলে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসিতে দুই শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব অর্জন
॥ নিরত বরন চাকমা,বরকল।
পার্বত্য রাঙ্গামাটি বরকল উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো জিপিএ- ৫ পেয়ে দুই শিক্ষার্থী কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এরমধ্যে একজন আইমাছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বগাছড়ি গ্রামের ভরত কুমার চাকমার বড় ছেলে সতেজ চাকমা। অপরজন বরকল কলেজ পাড়ার বুদ্ধলীলা চাকমার কন্যা হিরোষী চাকমা। দুজনই বরকল মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী বলে জানা যায়। গত বৃহস্পতিবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ।
হিরোষী চাকমার পিতা বুদ্ধলীলা চাকমা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বরকলের শিক্ষকদের শিক্ষা কার্যক্রমের সুপরামর্শ ঘাটতি ছিল না। হিরোষী চাকমা জিপিএ-৫ পাওয়ার পেছনে শিক্ষকদের ভূমিকা রয়েছে। মেয়ে লেখাপড়ায় যথেষ্ট আগ্রহ ও পরিশ্রমী ছিল। যার জন্য আজকে তার এই কৃতিত্ব অর্জন। সতেজ চাকমা জানান, উপজেলার মধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো বরকল মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে নিজেকে ধন্য এবং গর্ববোধ অনুভব করছি। আমি ভবিষ্যতে আরও ভালো কলেজে পড়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, এ সকল অর্জনের পেছনে আমার জেঠা ও মা উষা রাণী চাকমা। কিন্তু তিনি আজ বেঁচে নেই। আমার বাবা-মা, অমর কুমার জেঠা ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা ছিল। তাদের সহযোগিতা এবং নিজের পরিশ্রমে আমি জিপিএ-৫ পেয়েছি। হিরোষী চাকমা জানান, পরিশ্রম, বাবা-মা এবং শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতায় কৃতিত্ব অর্জন করেছি। এ কৃতিত্বের পেছনে অবদান ছিল শিক্ষক শুভেন্দু স্যারের। আমি জিপিএ-৫ পেয়ে বাবা এবং বরকল স্কুলের সুনাম রাখতে পেরেছি এজন্য নিজেকে গর্ব অনুভব করছি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সুলতান আহমদ জানান, বরকল উপজেলায় প্রথমবারের মতো এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন দুই শিক্ষার্থী। এটি বরকলের জন্য একটা সুখবর এবং গর্বের বিষয়। শহর অঞ্চলের তুলনায় দূর্গম এলাকা ও পশ্চাৎপদ এলাকা হিসেবে পাসের হার সন্তোষজনক হয়েছে। তাছাড়া করোনা পরিস্থিতির কারণে লকডাউনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কারণে শিক্ষার্থীরা সকল শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে ছিল। অভিভাবকরাও সচেতন থাকলে পাসের হার আরো বাড়তো। উপজেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৫৯৬ জন। তারমধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৫৮১জন, কৃতকার্য হন ৫২২ জন এবং পাসের হার ছিল ৮৬.৫৭%।