শিরোনাম
জুয়া খেইলতু হনে হর আবার দুধ দিয়েনা গোসলঅ গড়রনাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশের অভিযানে ৬০ হাজার ইয়াবাসহ আটক- ১খাগড়াছড়ির রামগড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধনঅস্বাস্থ্যকর মিষ্টি বিক্রি করায় মাটিরাঙ্গায় বনফুল প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাপানছড়িতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনবান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদক-অবৈধ অস্ত্র, আমরা সুন্দর এবং সুস্থ পরিবেশ চাইমানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চাই, কাপ্তাইয়ে গণসংবর্ধনায় দীপন তালুকদারসপ্তপূর্ণা’র স্বপ্ন পূরনে দীঘিনালা সেনা জোনের সহযোগিতাখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে অগ্নিকান্ডে ৫ দোকান পুড়ে ছাইবান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ২০ হাজার পিস ইয়াবা সহ রোহিঙ্গা যুবক গ্রেফতার

লামায় ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

৪৪

॥ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা ॥

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তারের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ১৮ আগস্ট বুধবার সকাল ৮টায় আজিজনগর জেনারেল হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল নিয়ে যাওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে জানায় তার বাবা। শিশুটির নাম ইয়াছিন আরাফাত (৩)। সে চকরিয়া উপজেলার মাইজ কাকারা এলাকার বেলাল হোসেন এর ছেলে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শিশুটিকে হার্নিয়ার অস্ত্রোপাচারের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল চকরিয়ার মালুমঘাট হাসপাতালে। পথে এক দালালের খপ্পরে পড়ে ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে অস্ত্রোপাচার করাবে বলে নিয়ে আসে লামার আজিজনগর জেনারেল হাসপাতালে। কথা মতো চুক্তি হয় আজিজনগর জেনারের হাসপাতালের ডাক্তার জেমস ইটেনের সাথে। কোন এ্যানেসথিওলজিস্ট ছাড়াই ১৭ আগস্ট বিকাল ৫ টায় অস্ত্রোপাচার করেন ডাক্তার জেমস ইটেন। তাতেই শেষ নয়। যেখানে তিন বছরের এই শিশুটিকে অস্ত্রোপাচারের পর ক্লিন্ডামাইসিন ইনজেকশন ফর্ম ব্যবহার করাটা উচিত ছিল সেখানে ক্লিন্ডামাইসিন ক্যাপসুল ব্যবহার করেছেন যার কারনে এই ক্যাপসুল গলা শ্বাস নালিতে আটকে শিশুটির মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের সামনে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়।

শিশুটির বাবা মোঃ বেলাল বলেন, ‘১৮ আগস্ট সকাল বেলা তিন বছরের এই ছোট্ট শিশুটিকে যখন এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হয় সাথে সাথে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। হাসপাতালে দ্বায়িত্বরত ডাক্তার এবং নার্সরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েও অবস্থার অবনতি হওয়ায় জরুরীভাবে শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু ঐখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষনা করে।

শিশুটির নানি বলেন, ‘সকাল সাড়ে সাতটা বাজে আমার নাতিকে হাসপাতালের একজন নার্স এসে জোর করে নাক চেপে ধরে এই ক্যাপসুলটি খাওয়ায় দেয় এবং খাওয়ানোর পর পরেই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। তিন বছরের বাচ্চাকে ক্যাপসুল খাওয়াতে আমি জীবনেও দেখিনি।’

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী বলেন, ‘এটা অবশ্যই ভুল চিকিৎসা। বাচ্চাটিকে ক্যাপসুল না দিয়ে ইনজেকশন ফর্ম ব্যবহার করতে পারতো। তাছাড়াও এ্যানেসথিওলজিস্ট ছাড়া কোন ভাবে এই হার্নিয়া অস্ত্রোপাচার সম্ভব না। যদি করে থাকে সেটাও অপরাধ।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন অংসুই প্রু মারমা বলেন, ‘এই হাসপাতালের নামে অসংখ্য অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। হাসপাতালটির কোন অনুমোদন নেই। তবে জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু যথেষ্ট অনিয়ম ধরা পড়াতেই তাদেরকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। খুব শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’