শিরোনাম
টিকটক করা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের শালিসে মানা না মানা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৪বাঘাইছড়িতে বিজিবি উদোগে বৃক্ষরোপণ, আর্থিক সহায়তা ও সেলাই মেশিন বিতরণরামগড়ে বিজিবির অভিযানে বিভিন্ন সময়ে জব্ধ তিন কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংসসরকার দেশের অর্থনীতির চাকাকে শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর: পার্বত্য মন্ত্রীকাপ্তাই ৪১ বিজিবির অভিযানে ৮৩ লক্ষ টাকার ভারতীয় সিগারেট জব্ধকাপ্তাইয়ে ইসলামী সম্মেলনে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানরাঙ্গামাটিতে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ডবাঘাইহাট সেনা জোনের উদ্যোগে নিরাপত্তা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিতসাইকেল নিয়েই এভারেস্টের তিন উচ্চতম স্থানে, সাবাস বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যাশিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব থাকবে, দূর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়বো না: দীপন তালুকদার

টিকটক করা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের শালিসে মানা না মানা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৪

১

॥ কবির হোসেন, কাপ্তাই ॥
রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে অমীমাংসিত শালিস বৈঠকের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামরির ঘটনা ঘটেছে। এতে ছুরিকাঘাতে উভয় পক্ষের চারজন আহত হয়েছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে কাপ্তাই থানাধীন ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ড নতুন বাজার এলাকায় কাপ্তাই স্টোরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, কাপ্তাইয়ের শিল্প এলাকা (সমিল এরিয়া) এলাকার হক সাহেবের ছেলে রকিবুল ইসলাম ভুবন ও মোঃ শহিদের ছেলে মোঃ মোজাম্মেল হোসেন বাবু এবং চন্দ্রঘোনা থানার চিৎমরম মুসলিমপাড়ার মৃত নুর ইসলামের ছেলে আবু জাফর ও আবু হানিফ লিটন (৪০)। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের দ্রুত সিএনজিযোগে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বর্তমানে চারজনই সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে চিৎমরম মুসলিমপাড়ার নাছিমা আক্তার মোনার সঙ্গে বিলাইছড়ি উপজেলার ক্যাংড়াছড়ির ইসমাইল হোসেনের সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর ইসমাইল চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন এবং স্ত্রীকে সেখানে নিয়ে যান। পরে নাছিমা আক্তারও একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। কিছুদিন পর টিকটক করা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার শালিস বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে। প্রায় দুই মাস আগে কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকার বাজারের আব্দুল কাদেরের দোকান ‘কুলিং কর্নারে’ উভয় পক্ষের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার সময় ছেলের চাচাতো ভাই আব্দুল কাদের বারবার কথা বলায় বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়। এরপর গত ২০ সেপ্টেম্বর একই বিষয় নিয়ে পুনরায় শালিস বৈঠক বসে। সেখানেও কথাবার্তার একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। পরবর্তীতে একই বিষয় নিয়ে আবারও শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ধারণা, পূর্বের এসব শালিস বৈঠকের বিরোধ ও উত্তেজনার জের ধরেই বুধবার নতুন বাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে কাপ্তাই থানার মোবাইল ডিউটি অফিসার এসআই মনতাজ আলী সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তিনি ও পুলিশ সদস্যরা কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।