শিরোনাম
বান্দরবানের থানচিতে মিষ্টি কুমড়া চাষে ঝুঁকছে চাষিরা, ফলন ও আয় ভালপার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি লঙ্ঘন, সরকারের যেন উল্টো যাত্রা: দাবি নাগরিক সমাজেরচাঁদাবাজরা থার্ট পার্টি হলে দ্রব্যমূল্যের দামতো বাড়বে: উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যানকাপ্তাইয়ে বিজিবির হেফাজত থেকে চোরাকারবারীকে ছিনিয়ে নিলতথ্য পেতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে যাতে হয়রানির শিকার হতে না হয়খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বিজিবি’র অভিযানে ভারতীয় পণ্য জব্দবাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র-গুলি সহ বিদেশি সিগারেট উদ্ধারপার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার রোডম্যাপ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপিপর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম জোরদার প্রয়োজন: ওয়াদুদ ভুঁইয়া এমপিপার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক: দীপেন দেওয়ান, এমপি

বান্দরবানের থানচিতে মিষ্টি কুমড়া চাষে ঝুঁকছে চাষিরা, ফলন ও আয় ভাল

১

॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচিতে জুমচাষের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। পাহাড়ের ঢালু জমি, অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির উর্বরতাকে কাজে লাগিয়ে জুমের ধানের পাশাপাশি চিট্টা জাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষও করছেন তারা। কম খরচে তুলনামূলক ভালো ফলন পাওয়ায় দিন দিন এ সবজির চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, জুমের জমিতে ধান, মরিচ, হলুদ, সাদা কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল একসঙ্গে চাষ করা হয়। এর মধ্যে মিষ্টি কুমড়া চাষে বাড়তি শ্রম ও বিনিয়োগ তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই এটিকে বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কম খরচে লাভবান হওয়ায় মিষ্টি কুমড়া চাষের ঝুঁকছে চাষিরাও।

জানা গেছে, পাথুরে-বালুময় পাহাড়ি জমি, যেখানে চাষাবাদই ছিল কঠিন—সেখানেই এখন ফলছে মিষ্টি কুমড়া। উঁচু-নিচু ও অনুর্বর জমিতে বিভিন্ন জাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষ করা হয়। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও ভালো ফলন ও বাজারদরে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া চাষে তৈরি হচ্ছে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানও।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছরে ১৩৯ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে চিট্টা জাতের মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন মিষ্টি কুমড়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উঁচু-নিচু ও ঢালু পাহাড়ের জমিতে এ আবাদ ছড়িয়ে পড়ায় মিষ্টি কুমড়ার উৎপাদন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন্দু সড়ক, তুমা-তুঙ্গী সড়ক ও থানচি-বলীপাড়া সড়ক এবং ডিম পাহাড় এলাকায় আশপাশে পাহাড়ের উঁচু-নিচু জমিতে এখন চাষ হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া। চিট্টাসহ বিভিন্ন জাতের কুমড়া চাষ করছেন কৃষকেরা। এসব জমিতে কোথাও ফলন ভালো, আবার কোথাও মিলছে কম ফলন।

এদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি মণের মিষ্টি কুমড়া সাড়ে ৮শত থেকে ৯শত টাকা দরে কিনছেন। কিন্তু পাহাড়ি দুর্গম সড়কে পরিবহন খরচই হয়ে উঠছে বড় বোঝা। কুমড়া সংগ্রহের পর বাজারে পৌঁছাতে বাড়তি ব্যয় গুনতে হচ্ছে তাদের। গ্রামীন সড়ক যোগাযোগ ভালো হলে পরিবহন খরচ কমবে, লাভবান হবে চাষিরাও।

স্থানীয় চাষির রাইলং ম্রো, চাইসিংউ মারমা ও ষ্টিফেন ত্রিপুরাসহ অনেকেই জানান, মিষ্টি কুমড়া চাষের আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে চাষীদের। স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়ার ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। অনেক সময় ক্ষুদ্র চাষিদের উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।

তারা আরো বলেন, মানসম্মত বীজ, কৃষি উপকরণ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উৎপাদিত কুমড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে পাহাড়ি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। জুমের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়ার চাষ বাড়িয়ে পরিবারের আয় আরও বাড়াতে চান তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ওয়ালিদ হোসেন জানান, কম খরচে বেশি লাভ—মিষ্টি কুমড়া চাষে এটাই কৃষকদের প্রধান আকর্ষণ। সম্ভাবনাময় এ ফসলের উৎপাদন বাড়াতে উন্নত বীজ, আধুনিক চাষপদ্ধতি ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। পাহাড়ে উঁচুনিচু ও ঢালু জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষের সুযোগ থাকায় প্রতিবছর এ আবাদ বাড়ছে।