পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি লঙ্ঘন, সরকারের যেন উল্টো যাত্রা: দাবি নাগরিক সমাজের
॥ মিলটন বড়ুয়া ॥
চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যুক্তিযুক্ত ও বাস্তবসম্মত। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংবলিত যে বিশেষ শাসন ব্যবস্থা রয়েছে তার সাথে সরকারের গঠিত তিন কমিটি সাংঘর্ষিক। বর্তমান সরকারের একতরফা সিদ্ধান্ত, চুক্তি লঙ্ঘন আইন ও জনবিচ্ছিন্ন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজবাড়ীস্থ সাবারাং রেস্টুরেন্টে পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বসাধারনের পক্ষে বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ শ্রী শিশির চাকমা, শ্রী নব কমল চাকমা, আদীবাসী ফোরাম, খাগড়াছড়ি, অ্যাড. শ্রী ভবতোষ দেওয়ান, পার্বত্য চট্টগ্রম হেডম্যান নের্ট ওয়ার্ক, শ্রী প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, অবসরপ্রাপ্ত উপসচিব, শ্রী সন্তোজিত চাকমা ও শ্যী মধুমঙ্গল চাকমা প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে শ্রী শিশির চাকমা বলেছেন, দেশে ঘটনা বহুল পরিস্থিতিরি মধ্য দিয়ে ২০২২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পাহাড়ী-বাঙালী সকল পার্বত্যবাসী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে দলের তিন প্রার্থীকেই নিরংকুশ ভোটে নির্বাচিত করা হয়েছে। সরকার পার্বত্যবাসীর জন্য অনেক আশার সঞ্চার করেছিল একজন জনপ্রিয় সৎ, যোগ্য ও দক্ষ সাংসদ হিসেবে অ্যাড. দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী পদে নিয়োগ করায়। কিন্তু আমরা দেখেছি সাড়ে তিন মাসের মাথায় দীপেন দেওয়ান মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলে তা কেউ মেনে নিতে পারেনি। তাঁকে স্বপদে পূর্ণবহালেরও দাবি জাানো হয়েছিল। বিগত ২৭ আগষ্টে বান্দরবানের সাংসদ সাচিংপ্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে সরকার নিয়োগ দিলেও তাঁকে কক্সবাজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত পার্বত্য এলাকার বিশেষ আইনের সাথে কোনভাবেই সংগতিপূর্ণ নয় জনদাবির সাথে সরকারের যেন উল্টোযাত্রা করার সামিল।
শ্রী শিশির চাকমা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী পদায়ন করে ব্যারিস্টার মীর হেলালকে নিয়োগ পার্বত্য চুক্তির লঙ্ঘন কেননা সেখানে প্রতি বা উপ মন্ত্রী পদে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগও নাই। তারও মধ্যে পার্বত্য এলাকার যথাযথ প্রতিনিধি না থাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বিগত ১০ সেপ্টেম্বর একতরফাভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শ কমিটি গঠন করার কারনে। লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো গঠন করা হয়েছে শতভাগ দলীয় এবং জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে যা গণতান্ত্রিক সমাজে কোনভাবে ও উপায়ে গ্রহনযোগ্য হতে পারে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে মীর হেলাল উদ্দিনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে যা তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা নন এবং তিনি নির্বাচিত প্রতিনিধিও নন। তাই মীর হেলাল উদ্দিনকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অন্যত্র পদায়ন করা এবং মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ না দেওয়ারও আহ্বান জানান। একই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা রাজনৈতিকভাবে সামাধানের লক্ষ্যে বৈধ ও উপযুক্ত প্রতিনিধির সাথে আলোচনা করে কমিটি পূনর্গঠন করা। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তাবায়ন প্রক্রিয়ার রোডম্যাপ ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তাবায়নের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করা। তাই সরকারের সকল জনবিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রত্যাহার ও পূনর্মূল্যায়ন করার আহ্বান সহ সমস্যা সমাধানের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।