॥ মোঃ ইসমাইল, পানছড়ি ॥
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মাছ বাজারে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ প্রকাশ্যে বিক্রির ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিক্রির জন্য রাখা নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে বাজারে সক্রিয় কথিত মাছ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের প্রভাব কি এসব অনিয়মকে উৎসাহিত করছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা নাসরিনের নেতৃত্বে পানছড়ি মাছ বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পানছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয় কান্তি চাকমা। সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন পানছড়ি থানা পুলিশের একটি দল।
জানা গেছে, সাপ্তাহিক হাটবার রবিবারকে কেন্দ্র করে বাজারে এসব নিষিদ্ধ মাছ বিক্রি করা হচ্ছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাছ বিক্রির ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে বাজারের একাধিক দোকানে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ বিক্রির সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন এবং বিক্রির জন্য রাখা এসব নিষিদ্ধ মাছ জব্দ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানছড়ি মাছ বাজারে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী চক্র বা কথিত সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তাদের প্রভাবের কারণে অনেক সময় মাছের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। স্থানীয়দের দাবি, এই ধরনের সংঘবদ্ধ অনিয়ম কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতেও নিষিদ্ধ বা ক্ষতিকর মাছ বিক্রির মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে সচেতন মহলের দাবি, শুধু জরিমানা করলেই হবে না; বাজারে কথিত সিন্ডিকেট, মূল্য নিয়ন্ত্রণে অনিয়ম এবং নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রির নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাহলেই বাজারে স্বচ্ছতা ফিরবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষিদ্ধ মাছ বিক্রি, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।