উদ্ভাবনী চিন্তাকে প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে
॥ মোঃ আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা ॥
“মেধা, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম। শুক্রবার (১২ জুন) মাটিরাঙ্গা উপজেলা অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এই বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা-এর সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম এর আওতায় এবং এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম এর সহযোগিতায় এই কর্মসূচিটি বাস্তাবায়ন করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন।
মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাটিরাঙ্গা সরকারি ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মোঃ এরশাদসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ শরিফুল ইসলাম বিদ্যুৎ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ সেলিম রানা, সহকারী প্রোগ্রামার (আইসিটি) রাজীব রায় চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ের এই প্রদর্শনীতে উপজেলার ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তাদের চমৎকার সব উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প এবং স্টার্টআপ ধারণা প্রদর্শন করেন। প্রযুক্তি, পরিবেশ, কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সৃজনশীল প্রজেক্ট তুলে ধরেন।
পরিবেশ ও জলবায়ু প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তৈরি ইকোব্রিকস, কার্বন ডাই-অক্সাইড পর্যবেক্ষণ প্রোটোটাইপ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: বন্যা-প্রতিরোধী এলাকা ও ভাসমান বাড়ির ধারণা, রেইন ডিটেক্টর অ্যালার্ম সিস্টেম। প্রযুক্তি ও মহাকাশ: রুরালনেক্সাস, ট্রাভেলা এবং সাইক্লোন এক্স বিডি অবজারভার স্যাটেলাইট। সবুজ শক্তি শক্তির রূপান্তর, হাইড্রোলিক পাওয়ার (জলবিদ্যুৎ) এবং জিওথার্মাল এনার্জি প্ল্যান্ট।
মেলায় অংশগ্রহণকারী উপজেলার ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকদের মূল্যায়নে বিজয়ীদের তালিকা ঘোষণা করা হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকদের মূল্যায়নে খেদাছড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রথম স্থান, তাইন্দং উচ্চ বিদ্যালয় দ্বিতীয় স্থান এবং শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয় তৃতীয় স্থান অর্জন করে। উদ্ভাবনী প্রকল্প, উপস্থাপনা দক্ষতা ও সৃজনশীল চিন্তার স্বীকৃতিস্বরূপ এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বিদ্যুৎ শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করে বলেন, “আমাদের তরুণ শিক্ষার্থীদের এই উদ্ভাবনী চিন্তাকে শুধু প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। তাত্ত্বিক জ্ঞানের সাথে প্রায়োগিক দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন আগামী দিনে দেশের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে পারে, আমাদের সেই সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ধরনের বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রদর্শনী শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আধুনিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এই আয়োজনগুলো দারুণভাবে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন।