শিরোনাম
সরকারি মাতামুহুরী কলেজের শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবিতে ৭২ ঘন্টার আলটিমেটামখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ওএমএসের পন্য বিক্রি শুরুখাগড়াছড়ির রামগড়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিজিবির মানবিক সহায়তারাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে সরকারী নির্দেশ অমান্য করে ঋণের কিস্তি আদায়রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে ৩৮ বোতল দেশীয় কেয়ারু মদ জব্দলামায় জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিতসরকারের প্রধান লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা: দীপেন দেওয়ানকফি ও কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ জরুরিপার্বত্য এলাকার উন্নয়নে সরকারের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালঅবশেষে দুই দিন পর কাপ্তাই হ্রদেই মিলল ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতির মরদেহ

বান্দরবনের থানচিস্থ খুমী লাইট হাউজ ছাত্রাবাসের ছাত্র ছাত্রীরা তীব্র পানির সংকটে

১৩

॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের বিভিন্নএলাকায় এখন পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পানির নির্ভর স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজ চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। একদিকে পাহাড়ি এলাকা, তারমধ্যে বনাঞ্চল গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পানির স্তরও খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। ছড়া ও ঝিরি ঝর্ণা শুকিয়ে যাওয়ায় এসব নির্ভর যেটুকু ভরসা করা যেত এখন তা থেকেও মানুষ বঞ্চিত। পানির সংকট দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে।

বান্দরবানের থানচিতে খুমী লাইট হাউজ ছাত্রাবাসে নিরাপদ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির স্থায়ী কোনো উৎস না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন স্থানীয় মগক ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। নিরাপদ পানির সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। এ অবস্থায় দ্রুত বিকল্প পানির উৎস বের করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমেিন গেলে তারা জানান, এখানে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে খুমী লাইট হাউজ ছাত্রাবাস। কিন্তু শিক্ষা অর্জনের এই সংগ্রামে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ পানি। পাহাড়ি এলাকা তার মধ্যে পানির স্থার না পাওয়ায় গভির নলকূপ বসানো যাচ্ছেনা। এতে করে এসব এলাকায় পানির সংকট চরম ভাবে দেখা দেওয়ায়। প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা দুর পাহাড় বেয়ে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তার মধ্যে সবার চিন্তা বেড়েছে ছাত্রীরা পানিংগ্রহ করতে গিয়ে কখন বিপদে পড়ে যায়।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে প্রায় এক হাজার ফুট গভীরতায় ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ করা হলেও মেলেনি পানির সন্ধান। ফলে ব্যর্থ হয় সেই প্রচেষ্টা। তবে সংশ্লিষ্টদের বিকল্প হিসেবে রিংওয়েল স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন প্রকৌশলীরা।

এদিকে শিক্ষার্থী রাকিলি খুমী, নাংকো খুমী ও অংথাই খুমীসহ অনেকেই বলছেন, নিরাপদ পানির সংকট তাদের জন্য নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ঝিরি থেকে পানি আনতে হয়। শুষ্ক মৌসুম এলেই পানি পাওয়া কঠিন। কখনো কখনো সীমিত পানি ব্যবহার করতে হয়। বিদ্যুৎ ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা না থাকায় রোগবালাইয়ের ভয় সবসময় থাকে।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবক শিক্ষক হইথং খুমী ও চিনিঅং খুমী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ পানির স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে কিছুটা স্বস্তি মিললেও শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। নিরাপদ পানির অভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত না হলে পানিবাহিত নানা রোগের আশঙ্কার করেছেন তারা।

খুমী লাইট হাউজ ছাত্রাবাসের পরিচালক অংহ্লা ওয়াং খুমী জোনাথান বলেন, দুর্গম পাহাড়ের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দিতে আমরা সংগ্রাম করছি। কিন্তু নিরাপদ পানির অভাবে সেই প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংকটটি বিদ্যমান থাকলেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ ও নিরাপদ পানির সংকট এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন দূরে ঝিরি থেকে পানি আনতে হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে তাদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) স্বপন চাকমা জানান, ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য গভীর পর্যন্ত ড্রিলিং করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত পানির স্তর পাওয়া যায়নি। আমরা বিকল্প হিসেবে রিংওয়েল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছি, যাতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পানির সুবিধা পায়। তবে রিংওয়েল স্থাপনে কার্যক্রমটি চলতিবছরে জুলাইয়ে কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।