শিরোনাম
চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে: প্রতিন্ত্রী মীর হেলালখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় মিষ্টি উৎপাদন প্রতিষ্ঠান মাতৃভান্ডারকে জরিমানাস্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তায় সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি মাটিরাঙ্গা সেনা জোনেরখাগড়াছড়ির দীঘিনালায় শিক্ষার্থীদের মাঝে জোনের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণলামায় কৃষিপণ্য মার্কেটিং চ্যালেঞ্জ সমাধানে করণীয় বিষয়ক এ্যাডভোকেসী সভাজনগণের ভোগান্তি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না: ভুমি প্রতিমন্ত্রীকাপ্তাইয়ে সাংবাদিকদের নিয়ে জেন্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিতপার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ, রাজনীতিতে ও উন্নয়নে হতাশ রাঙ্গামাটিবাসীওবান্দরবনের থানচির সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করায় ৪৭ খুমী নাগরিক আটকবন্যপ্রানী সুরক্ষায় কাপ্তাইয়ে প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ

বান্দরবনের থানচিতে ঝুকিপূর্ণ টিনশেড ঘরে পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

১৩

॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম তিন্দু ইউনিয়নের তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এ চরম ঝুঁকির মধ্যে চলছে পাঠদান। টিনশেডের জরাজীর্ণ ছাদে অসংখ্য ছিদ্র, বাঁশ কাঠ ও টিনের দেয়াল নড়বড়ে, মেঝের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েই এই ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, নেটওয়ার্কবিচ্ছিন্ন তিন্দু ইউনিয়নের শিক্ষা অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে এখানকার শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়টিকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করে রাষ্ট্রীয়ভাবে উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ২০২০ সালে তিন্দুর এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে স্কুলটি স্থাপন করা হয়। ২০২৩ সালে নিন্ম মাধ্যমিক পাঠদানে অনুমোদন পায় এবং ২০২২ সালে বান্দরবান জেলা পরিষদের ইউএনডিপির নারী ক্ষমতায়ন প্রকল্প মাধ্যমে স্কুলটি পুন: সংস্কার করে দিয়েছিল। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই টিনশেড ভবনটি আবারও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

এদিকে শিক্ষার্থীরা বলছেন, শুস্ক মৌসুমে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। বেঞ্চ ভিজে যায়, বই-খাতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তারপরও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে।

অভিভাবক ও ইউপির সদস্য ক্রানিংঅং মারমা, উজিরাম ত্রিপুরা জানান, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিদ্যালয়ে পাঠালেও প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শঙ্কা কাজ করে অভিভাবকদের। দ্রুত একটি নিরাপদ ও স্থায়ী ভবননির্মাণের দাবি জানান তারা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার। কিন্তু তিন্দুর শিক্ষার্থীদের জন্য সেই অধিকার আজ জীবনসংগ্রামে পরিণত হয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে দিতে চান না তারা। তাই ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পাঠদান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। চলতি সপ্তাহে টানা বৃষ্টি ও দমকা বাতাসে ভবনের ছাদের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছাদ ও দেয়ালগুলোও নড়বড়ে হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে নির্মাণাধীন একাডেমিক ভবনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মংপ্রুঅং মারমার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে আমার দায়িত্বকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে নবম শ্রেণি চালুর অনুমোদন পেয়েছি।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন খাতে তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত সহযোগিতা করে আসছি। তবে বর্তমানে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকট সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যালয়ের জন্য তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক শিক্ষা সুপারভাইজার লালচাঁদ হোসেন জানান, তিন্দু গ্রুপিং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি অবস্থিত। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেখানে নবম শ্রেণিতে পাঠদানের অনুমোদনের বিষয়েও প্রধান শিক্ষক আমাকে অবহিত করেছেন।