শিরোনাম
চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে: প্রতিন্ত্রী মীর হেলালখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় মিষ্টি উৎপাদন প্রতিষ্ঠান মাতৃভান্ডারকে জরিমানাস্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তায় সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি মাটিরাঙ্গা সেনা জোনেরখাগড়াছড়ির দীঘিনালায় শিক্ষার্থীদের মাঝে জোনের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণলামায় কৃষিপণ্য মার্কেটিং চ্যালেঞ্জ সমাধানে করণীয় বিষয়ক এ্যাডভোকেসী সভাজনগণের ভোগান্তি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না: ভুমি প্রতিমন্ত্রীকাপ্তাইয়ে সাংবাদিকদের নিয়ে জেন্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিতপার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ, রাজনীতিতে ও উন্নয়নে হতাশ রাঙ্গামাটিবাসীওবান্দরবনের থানচির সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করায় ৪৭ খুমী নাগরিক আটকবন্যপ্রানী সুরক্ষায় কাপ্তাইয়ে প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ

আমাদের ভাষা সংস্কৃতিকে যেন ভুলে না যাই সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে: উষাতন তালুকদার

১৪

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি ও সাবেক সাংসদ শ্রী উষাতন তালুক বলেছেন, বিজু মানে পাহাড়ের ১৩টি ভাষাভাষি মানুষের অস্তিত্ব, বিজু মানে সংস্করণ। আমরা মানুষের মতো মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে চাই। জুম্ম জনগনেরও দেশের প্রতি অনেক অবদান রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯এপ্রিল) সকালে পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক বৃহঃ উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান, পাতা ও বিহু উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালী পূর্ব বক্তব্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

র‌্যালী পূর্ব রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পাহাড়ের ক্ষুদ্র বৌদ্ধ জাতী গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সামাজিক অনুষ্ঠান বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান,পাতা ও বিহু উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, (অবসরপ্রাপ্ত উপসচিব), উদ্বোধক ছিলেন, কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, চেয়ারম্যান রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ,

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রী উষাতন তালুকদার আরো বলেছেন, আমাদের ভাষা এবং সংস্কৃতি আমরা হারিয়ে ফেলছি। আমাদের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৃহত্তম এ সামাজিক অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত এখন শহর, গ্রামের মানুষ। বিজু মানে ১৩ ভাষাভাষি মানুষের অস্তিত্ব, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের সংস্করণ। তাই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে আমরা যেন আমাদের ভাষা এবং সংস্কৃতিকে ভুলে না যাই, এবং আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

প্রধান অতিথি বর্তমান সরকারকে ইঙ্গিত করে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলকে অবহেলিত উপেক্ষিত না রেখে আমাদেরকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করুন। পাহাড়ের জুন্ম জনগণেরও আমাদের দেশের প্রতি অনেক অবদান রয়েছে। আমরাও বাংলাদেশের নাগরিক, আমরা মানুষের মতো মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে চাই। সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধান কেন হবে না, না হওয়ার-তো নয়, এটা জাতীয় সমস্যা, এটা রাজনৈতিক সমস্যা। তাই সকলেই স্বদিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে আসলে অবশ্যই সমাধান হবে। মতভেদ থাকতে পারে কিন্তু আমরা বাংলাদেশী হিসেবে আমাদের দেশের জন্য সকলেই একতাবদ্ধ।

এর আগে র‌্যালী ও র‌্যালী পূর্ব অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। উৎসবকে কেন্দ্র করে এক শোভাযাত্রায় বিভিন্ন উপজেলা ও শহর গ্রাম থেকে হাজারো নারী পুরুষ বিভিন্ন দাবি দাওয়া সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে র‌্যালীতে অংশ গ্রহন করেন। পৌরসভা প্রাঙ্গন থেকে জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে র‌্যালী শেষ হয়।

উল্লেখ্য যে, প্রতিবছর এর ন্যায় এবছরও পাহাড়ের এ সামাজিক বৃহৎ অনুষ্ঠানের পূর্বে হাজারো নর-নারীর উপস্থিতিতে র‌্যালী বের করা হয়। জুম্ম জনগোষ্ঠীর অনেক নারী পুরুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোষাকে এতে অংশ গ্রহন করেন ও তাঁদের নিজস্ব ভাষায় সংস্কৃতির গান বাজনার মধ্য দিয়ে।