॥ কবির হোসেন, কাপ্তাই ॥
নির্মাণের ছত্রিশ বছর পার হতে চলেছে অথচ সংস্কারের অভাবে কাপ্তাই উপজেলার ঢাকাইয়া কলোনীতে জনসাধারণের ব্যবহৃত সিঁড়িটি এখন ধীরে ধীরে ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। কর্ণফুলি নদীর জোয়ার ভাটায় খুঁটির মাটির সরে গেছে তাই সিঁড়িটিও ঝুঁকিতে পড়ায় স্থানীয় জনসাধারণ ভয়ে ভয়ে ব্যবহার করছে। ১৯৯০ সালে কাপ্তাই সেনা ব্রিগেড কর্তৃক এই সিঁড়িটি নির্মাণ করেছিল। এখন ছত্রিশ বছর পার হতে চলেছে সংস্কারের অভাবে এখন ঝুঁকিতে রয়েছে এই সিঁড়ি।
স্থানীয়রা জানান, রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলাস্থ ৪নং ইউনিয়ন এর ৫নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পাড়াস্থ ঢাকাইয়া কলোনী। সেখানে অন্তত দুই হাজার মানুষের বসবাস। কাপ্তাই বাঁধের ঐ পাড়ে কর্ণফুলি নদীর নিয়মিত জোয়ার ভাটায় সিঁড়ির খুঁটির মাটি ধীরে ধীরে সরে গিয়ে এ পরিস্থিতি হয়েছে এটি প্রকৃতিরই অংশ। ভাটার সময় পানি যখন কমে যায় তখনই খুঁটির গোড়ায় কাজ করতে হবে। তবে এটি সময় স্বাপেক্ষ হলেও সংস্কার কাজ চালালে সিঁড়িটি রক্ষা করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়রা আরো জানান, উক্ত সিঁড়ি দিয়ে প্রতিদিন আরো দু’ই ইউনিয়নের হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। মানুষের প্রয়োজনের তাগিদে ১৯৯০সালে তৎকালীন কাপ্তাই ৬৫ সেনা বিগ্রেড ৫লক্ষ টাকা ব্যয়ে সিঁড়ি নির্মাণ করে দেন। কাপ্তাই নতুন বাজার হতে কর্ণফুলী নদীর পার ঘেঁষে এই শিড়িটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ করার পর হতে এলাকায় আরও বসতি বৃদ্ধি পায়। বসবাসরত হাজারো লোকজন এই শিঁড়ি দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে তাদের গোসলসহ বাসাবাড়ির দৈনিন্দন কাজ সম্পন্ন করে। এছাড়াও কাপ্তাই ইউনিয়ন হতে চিৎমরম এর পাশ্ববর্তী ইউনিয়নের মানুষ এই সিঁড়ি দিয়ে বিভিন্ন মালামাল নিয়েও প্রতিনিয়ত যাতায়াত করেন। ৩৬বছর আগে করা সিঁড়িটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। কর্ণফুলী নদীর জোয়ার ভাটার ফলে এবং বর্ষা মৌসুমে সিঁড়ির নিচে পিলারে মাটি এবং পলেস্তরা খসে পড়েছে অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়ই দাঁড়িয়ে আছে। শিঁড়িটি ব্যবহারকরিরা এখনো ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতসহ তাদের দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করছে।
কাপ্তাই ৪নং ইউনিয়ন এর ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবু তাহের জানান, বর্তমানে সিঁড়ির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যে কোন সময় এটি ধ্বসে হতাহতর আশঙ্কা রয়েছে। ওয়ার্ড বর্তমান সদস্য মোঃ ইমান আলী জানান, শিঁড়িটি দিয়ে দু’ই ইউনিয়নের প্রতিদিন হাজারো লোক যাতায়াতসহ দৈনন্দিন সকল কাজ সম্পন্ন করে থাকে। আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এটা সংস্কার বা নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত আর করা হয়নি। এলাকার লোকজন বর্তমানে সিঁড়ি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করছে। তাই স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন বা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক এটি সংস্কার বা নতুন নির্মাণ করে দিলে এলাকার মানুষের উপকার হবে। দূর্ঘটনা এড়াতে এবং জনস্বার্থে এটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।