বান্দরবানের রুমা সাঙ্গু সরকারি কলেজে শিক্ষক সংকট যানবাহন সমস্যায় অনিয়মিত উপস্থিতি
॥ উবাসিং মার্মা, রুমা ॥
বান্দরবানের রুমা উপজেলার একমাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রুমা সাঙ্গু সরকারি কলেজ এর শিক্ষক সংকট, ছাত্রছাত্রী বহনকারী গাড়ি যেন থেকেও নেই। দুর দুরান্ত এলাকার ছাত্রছাত্রীরা পারছেনা নিয়মিত ক্লাস করতে। অবকাঠামোর সংস্কার সহ নানা উন্নয়নে সংকট। সব মিলিয়ে যেন পিছিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার মান উনয়নে। তবে সব সমস্যা দূর হলে কলেজের পাশের হার আবারও আগের মতো ভালো অবস্থায় ফিরে আসবে জানালেন অধ্যক্ষ।
জানা গেছে, কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নন বোর্ড এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অবকাটামোর উন্নয়নে কাজ করেছে। কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর ২০১৮ সালে জাতীয়করণ করা হয়। যাত্রার এক দশক পার হলেও কলেজটির বিভিন্ন অবকাঠামো সংকট, শিক্ষক ঘাটতি ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতির অভাবে কলেজের শিক্ষার মানক দিন দিন খারাপ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কলেজে বর্তমানে মোট শিক্ষক আছেন ১১ জন এবং কর্মচারী ৩ জন। এরমধ্যেও বাংলা, ব্যবস্থাপনা ও ফিন্যান্স বিষয়ের শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। এসব বিষয়ে ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বাংলা বিভাগের ছাত্রী তাজহিয়া সুলতানা বলেন, বাংলা বিষযয়ে কোনো শিক্ষক না থাকায় এই বিষয়ের পাশের হার খুব কম। যদি একজন পূর্ণাঙ্গ বাংলা শিক্ষক থাকত, তবে আমাদের ফলাফল অনেক ভালো হতো।
কলেজ সুত্র জানায়, কলেজে শিক্ষার্থীদের আনার জন্য একটি গাড়ি থাকলেও চালক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে গাড়িটি অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীরা কলেজে নিয়মিত উপস্তিত থাকতে পারেনা। রুমা সাঙ্গু সরকারি কলেজের এই বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় এ বছর অংশ নেন ১২৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৮ জন, ফেল করেছেন ১১৭ জন। উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতি নিয়ে রুমা উপজেলা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা এইবার পাশের হার কেমন হবে। বিগত ১০ বছরের রুমা সাঙ্গু সরকারি কলেজের পাশের হার-২০১৬: ৩০%,২০১৭: ৬৭%, ২০১৮: ৩৪.২৮%, ২০১৯: ৪৭.৩৭%, ২০২০: ১০০%, ২০২১: ৯০%, ২০২২: ৮৪.২১%, ২০২৩: ৫৩.৩৩%, ২০২৪: ৬৩.৭৩% এবং ২০২৫: ৬.৪০% (সর্বনিম্ন)
মৌমিতা চৌধুরী, তিশা বড়–য়া ও সেতু বড়–য়া জানান, কলেজে আসতে প্রচুর খরচ হয়। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের ১০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। এতে অনেকেই নিয়মিত ক্লাসে আসতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। গাড়ি থাকলেও চালক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে অনেকেই ক্লাস মিস করেন, আর উপস্থিতি কম হলে স্বাভাবিকভাবেই পাশের হারও কমে যায়।
রুমা সাঙ্গু সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুইপ্রুচিং মার্মা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত সাময়িক পরীক্ষা, মাসিক মূল্যায়ন এবং তিন মাস অন্তর অভিভাবক সভা করলে শিক্ষার মান অনেক উন্নত হবে। তিনি আরও বলেন, অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের পড়শোনার বিষয়ে আরও নজর দিতে হবে। আমরা আশাবাদী, সব সমস্যা দূর হলে কলেজের পাশের হার আবারও আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।