শিরোনাম
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দ্ররিদ্রদের সহায়তা প্রদানরাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে বজ্রপাতে এক শিশুর মৃত্যুপার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের জীবিকার সুরক্ষায় নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে: পার্বত্য মন্ত্রীবাঘাইছড়িতে অবৈধভাবে মজুদ করা সাড়ে ৫ লক্ষ টাকার সেগুন কাঠ জব্দবান্দরবনের থানচিতে হামের সঙ্গে ডায়রিয়ার প্রকোপ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সীমান্তের মানুষওমাটিরাঙ্গায় কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ ও সার বিতরণখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় পাহাড়ি লিচুর মৌ মৌ গন্ধে মুখর বাজার এলাকাচুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে চুক্তি সম্পাদনকারী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে: পার্বত্য মন্ত্রীরাঙ্গামাটিতে দীপন তালুকদার দীপুকে-ই চেয়ারম্যান হিসেবে চায় বিএনপি পরিবারের অনেকেখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ভারসাম্যহীন ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

বান্দরবানের থানচিতে খুমী সম্প্রদায়ের শিশুদের শিক্ষার আলোর স্বপ্নদ্রষ্টা ‘জোনাথান’

২০

॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচিতে উপজেলার দুর্গম এলাকার জনজীবনের সংগ্রামের মাঝে শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন এক অদম্য যুবক। যার দুই পা ও এক হাতের অবস্তু প্রতিবন্ধী অংহ্লা ওয়াং খুমী (জোনাথন)। তাঁর উদ্যোগে জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্নজনের সহযোগিতায় থানচির বলিপাড়া ইউনিয়নের নিচে নাইন্দারী পাড়া সংলগ্নে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন খুমী লাইট হাউজ ছাত্রাবাস।

জোনাথানের খুমী ছাত্রাবাস স্থাপনে যাত্রায় সহজ ছিল না। তবে তার স্বপ্নের এই পথেও আছে অনেক বাধা বিপক্তি। ছাত্রাবাসে নেই কোনো খেলার মাঠ। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও অপ্রতুল। রাতে পড়াশোনার জন্য একমাত্র ভরসা একশত ওয়ার্ডের সোলার প্যানেলের লাইট। ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্কের অভাবে দাপ্তরিক কাজ করতেও পদে পদে বেগ পেতে হয়। তবু কোনো কিছুই যেন তাদের স্বপ্ন দেখার পথে বাধা হতে পারে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, খুমী লাইট হাউজ নামের ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তিন কক্ষে বিশিষ্ট একতলায় ভবন স্থাপন করে দেন বান্দরবান জেলা পরিষদ। পরে অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্নজনের সহযোগীতায় বাঁশ ও কাঠের পাটাতন দিয়ে ২য় তলায় নির্মাণ করা হয়েছে। এবং ২০১৮ সালে মাত্র ১০ জন শিশুকে নিয়ে এক স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে যাত্রা শুরু করে এই “খুমী ছাত্রাবাস”। বর্তমানে দুই নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক-শিক্ষিকা এখানে ৫০ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কাজ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যাকে থামাতে পারেনি। তিনি পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর খুমী সম্প্রদায়ের শিশুদের শিক্ষায় এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন জোনাথান। প্রতিবন্ধী মানে সমাজের বোঝা নয়, তারাও হতে পারে সমাজের সম্পদ এই বিশ্বাস বুকে নিয়েই তিনি গড়ে তোলেন এই প্রতিষ্ঠান। যেখানে শিক্ষার পাশাপাশি শিশুরা পায় আশ্রয়, ভালোবাসা আর স্বপ্ন দেখার সাহস।

এদিকে হোষ্টেল সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, জোনাথানের হাতে গড়া এই ছাত্রাবাস শুধু একটি শিক্ষালয় নয়, এটি একটি আশ্রয়স্থল। এখানে রুমা, রোয়াংছড়ি’সহ থানচির দুর্গম সীমান্ত এলাকার পড়ালেখা থেকে ঝড়ে পড়ার শিশুসহ প্রতিবন্ধী ও অনাথ শিশুরা পেয়েছে শিক্ষার ঠিকানা। বর্তমানে ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী আছে, এখানে কেবল বাংলা নয়, খুমী ভাষার নিজস্ব মাতৃভাষার বর্ণমালা দিয়েও তাদের শিক্ষা দেওয়া হয়।

থানচি খুমী লাইট হাউজের পরিচালক অংহ্লা ওয়াং খুমী (জোনাথন) এর সাক্ষাত তিনি বলেছেন, একসময় দুর্গম এলাকাজুড়ে খুমী সম্প্রদায়ের শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে ছিল বঞ্চিত। পড়ালেখা থেকে ঝড়ে পড়ার, প্রতিবন্ধী, অনাথ ও দুর্গম প্রান্তে শিশুদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করছি। ছোট্ট আশ্রমটি আজ শুধু একটি শিক্ষালয় নয়, এটি আশার বাতিঘর। ইচ্ছা আর সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে কোনো বাধাই বড় নয়। এমতাবস্থায় সরকারি বেসরকারি ও দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রতি সহযোগিতার চান তিনি।