শিরোনাম
বান্দরবনের থানচিতে হামের সঙ্গে ডায়রিয়ার প্রকোপ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সীমান্তের মানুষওমাটিরাঙ্গায় কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ ও সার বিতরণখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় পাহাড়ি লিচুর মৌ মৌ গন্ধে মুখর বাজার এলাকাচুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে চুক্তি সম্পাদনকারী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে: পার্বত্য মন্ত্রীরাঙ্গামাটিতে দীপন তালুকদার দীপুকে-ই চেয়ারম্যান হিসেবে চায় বিএনপি পরিবারের অনেকেখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ভারসাম্যহীন ব্যক্তির লাশ উদ্ধারখাগড়াছড়ির পানছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারকাপ্তাইয়ে মৎস্যজীবিদের মাঝে ভিজিএফ এর চাল বিতরণরাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে আগুনে পুড়ে ছাই অংথইউ খিয়াং এর ঘরবাবার ক্যান্সারে ও স্ত্রী প্যারালাইসিসে আক্রান্ত অর্থ সংকটে তনচংগ্যা পরিবার

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি কাচালং নদীর ভাঙ্গনে হুমকির মুখে প্রায় ৬০ পরিবার

১৭

॥ ইব্রাহীম, বাঘাইছড়ি ॥
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব লাইল্যাঘোনা গ্রামের অন্ত ৬০টি পরিবার কাচালং নদীর ভাঙ্গনে হুমকির মুখে পড়েছে। ঐ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডেও এসব পরিবার নিজেদেরে ভিটেমাটি রক্ষা করতে স্থানীয় প্রশাসানের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নদীর ভাঙ্গন রোধ করা না হলে পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বসতবাড়িও।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাচালং নদীর পূর্ব পাড়ে বসবাসরত পরিবার গুলো আতঙ্কে জীবন যাপন করছেন। বর্তমান নদীর প্রায় মাঝখান পর্যন্ত রাস্তার সীমানা ও নিজস্ব জায়গা ছিলো এসব পরিবারগুলোর, কিন্ত কালের বিবর্তনে বর্তমানে সড়ক বিলিন হয়ে স্থানীয়দের বসবাসের জায়গাও এখন নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০টি পরিবারের বসতি ঘর ভাঙ্গনের কবলে পরে উদ্বাস্তু হয়ে গেছে তারা এখন তারা অন্যত্র বসবাস করছেন।

দেখা যায়, নদী ভাঙ্গনের সাথে সাথে এই এলাকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা অল্প বৃষ্টি হলেই প্লাবিত হয় পুরো এলাকা। চলাফেরার রাস্তা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের চলাচল বিপদজনক হয়ে উঠে। তার মধ্রে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরাতো আছেই। কাচালং নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ ও বন্যার সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি স্থানীয়দের দাবী বেড়িবাঁধ সহ উচুঁ সড়ক নির্মাণ।

স্থানীয় কৃষক মোঃ আফসার হোসেন বলেন, জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকে কেন্দ্র করে ১৯৬৪ সালে কাপ্তাই বাঁধের কারনে আমরা উদ্বাস্তু হয়ে এই এলাকায় বসবাস শুরু করি। একসময় নদীর পাড়ে বিশাল জায়গা ছিল এছাড়াও আমাদের চলাচলের জন্য রাস্তা ছিল এখন রাস্তা নেই সাথে বসতঘরের জায়গাও হারিয়ে যাচ্ছে নদীতে, নদীতে বেড়িবাঁধ দেয়া না হয় আমাদের অবশিষ্ট জায়গাটুকু হয়তো নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

বাঘাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুল খালেক বলেন, আমরা প্রায় ৫৫-৬০ বছর এই এলাকায় বসবাস করে আসছি সুন্দর ভাবে কিন্তু এই নদী ভাঙ্গন ও বন্যার ফলে জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে, নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে ব্যক্তি উদ্যোগ ও সরকারি সহায়তায় ছোট ছোট উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল যার কোনটিই কাজে আসেনি এখন এই ভাঙ্গনের বৃহৎ আকার ধারন করেছে যার সমাধান এখন বেরীবাধ নির্মাণ। তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই এলাকাটিকে রক্ষা করার জন্য বাঁধ নির্মাণের জন্য অনুরোধ জানান।

স্থানীয় যুবক ও বাঘাইছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক ইকবাল হোসেন বলেন, আমাদের এই এলাকাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার মধ্যে অন্যতম একটি দুর্যোগ পূর্ণ এলাকা, অল্প বৃষ্টিতে বন্যায় প্লাবিত হয় পুরো গ্রাম এবং নদী ভাঙ্গনের ফলে ৬০ টিরও অধিক পরিবারের দুর্দশা খুবই করুন। তাই নয় এই এলাকাটিতে নেই কোন আশ্রয় কেন্দ্র ও নেই উচুঁ সড়ক, বন্যায় প্লাবিত হলে মানুষজন যে আশ্রয় নিবে এমন একটি স্থান নেই, উচুঁ সড়ক থাকলে গবাদী পশু নিয়ে মানুষ বন্যার সময় কিছুটা স্বস্তি পেতো। তিনি হতাশা নিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা অনেক সমস্যায় ভুগছি কোন সমাধান হচ্ছেনা আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য নদী ভাঙ্গন রোধ, উচুঁ সড়ক ও বন্যার্তদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের নিকট আহবান জানা।

নদী ভাঙ্গনের বিষয়ে বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ বলেন, বাঘাইছড়িতে কাচালং নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে বিশেষ করে করেঙ্গাতলী থেকে শুরু করে দুরছড়ি সহ বিভিন্ন এলাকায় এলাকা। ইতিমধ্যেও বেশ কিছু যায়গায় নদীর দুই পাড়ে ভাঙ্গণ দেখা দিয়েছে। কাচালং নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ার ফলে বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে গিয়ে শ্রোতে দুই পাড়ে ভাঙ্গণ দেখা দিয়েছে। সেই সাথে একন বসতবাড়িগুলো হুমকীতে রয়েছে। তাই প্রকেল্পের মাধ্যমে হলেও দ্রুত সমস্যার সমাধান করলে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

এই বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামানের সাথে কথা বললে তিনি বললেন, আমরা ইতিমধ্যে কাচালং নদীর ভাঙ্গন এলাকা গুলো জরিপ করছি এবং পূর্ব লাইল্যাঘোনা এলাকার ভাঙ্গন রোধে মন্ত্রনালয়ে টেকশই বাধঁ নির্মাণের জন্য প্রাক্কলন (ইস্টিমেট) প্রস্তাব করা হয়েছে অনুমোদন দেওয়া হলে আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থাযী একটা সমাধান করা যাবে। এ বিষয়ে স্থানীয় জনগনের সহযোগীতাও তিনি কামনা করেন।