॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে আঞ্চলিক পরিষদ এবং জেলা পরিষদগুলোকে শক্তিশালী ও সম্পৃক্ত করার জোর দিতে হবে। আঞ্চলিক পরিষদকে গুরুত্ব না দিয়ে এবং জেলা পরিষদগুলোকে সম্পৃক্ত না করে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকৃত উন্নয়েন সম্ভব নয়। অচিরেই রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন পরিষদ ঘোষণা করা হবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইউ)র সহযোগীতায় এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও প্রথম আলো’র যৌথ আয়োজনে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জীবিকায়নের ধরণ, বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাধাসমূহ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, এমপি এসব কথা বলেছেন।
শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে দৈনিক প্রথম আলো’র সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মেহের নিগার ভূঁইয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য চঞ্চু চাকমা, রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের চিফ বিপ্লব চাকমা, বান্দরবান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জুলহাস আহমেদ, আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস এর নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা, পিআরএলসি প্রকল্পের সুবিধাভোগী কাজলী তঞ্চঙ্গ্যা, দ্য ডেইলি স্টারের সিনিয়র সাংবাদিক জাগরণ চাকমা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর নিখিল চাকমা।
মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, এমপি বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য পারস্পরিক আস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি দপ্তরগুলোর কাজের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো সবচেয়ে জরুরি শর্ত। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট জানান, এই চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চুক্তি সম্পাদনকারী দলের (পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি-জেএসএস) সঙ্গে অবশ্যই আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসতে হবে।
পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন খাতের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকে স্থবির করে রাখা কিংবা বিদেশি দাতা সংস্থাকে নিরুৎসাহিত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। পাহাড়ের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবিসহ সব বাহিনী অত্যন্ত সক্রিয় রযয়েছে। তাই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের স্বার্থে পর্যটন খাতকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নিরাপত্তার গন্ডি থেকে বেরিয়ে এসে দাপ্তরিক সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।
বিদেশি সাহায্য সংস্থা ও এনজিওগুলোর প্রতি নেতিবাচক বা সন্দেহপ্রবণ দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন সহযোগীদের পাহাড়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে মাঠপর্যায়ে যথাযথ তদারকি বা মনিটরিং না থাকার কারণে দারিদ্র্য বিমোচনের সরকারি-বেসরকারি অর্থ অপচয় বা আত্মসাৎ হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক মারপ্যাঁচের কারণে জুমচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে এই ব্যবস্থা সংস্কারের তাগিদ দেন। পার্বত্য অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন ভাবার কোনো সুযোগ নেই; এর অধিকার ও স্বাধিকার রক্ষা করে একে দেশের মূলধারার অর্থনীতির সাথে যুক্ত করতে হবে।
এসময় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উনয়নের দাবি জানান। সেই সাথে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, ঐতিহ্য ও অনন্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি প্রকল্প-পরবর্তী সময়েও যেন উন্নয়নের ধারা বজায় থাকে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন।
বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের ফার্স্ট কাউন্সিলর এডউইন কুক্কুক্ পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগের আহ্বান জানান এবং এ অঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচন ও অসমতা দূরীকরণে ইইউর দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।