বান্দরবনের থানচিতে হামের সঙ্গে ডায়রিয়ার প্রকোপ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সীমান্তের মানুষও
॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচিতে দুর্গম সীমান্তঘেঁষা রেমাক্রী ও তিন্দু ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে হামের পাশাপাশি ডায়রিয়ার প্রকোপও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত দেড় শতাধিক শিশু হাম-রুবেলা সাথে প্রাপ্তবয়স্কদেরও ডায়রিয়ার আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে যাওয়ার আগেই স্বাস্থ্য বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে বলে স্থানীয়রাও জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, আক্রান্তদের অধিকাংশই বিদ্যালয়পড়ুয়া শিশু। তবে শিশু সাথে বয়স্কদেরও ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছে। দুর্গম সীমান্তবর্তী জনপদে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই নতুন করে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। সেখানে দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও সীমিত স্বাস্থ্যসেবার কারণে পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি করছে।
জানা গেছে, তিন্দু ইউনিয়নের অংছু খুমী পাড়াসহ সড়কপথে সংযুক্ত দুর্গম এলাকায় কয়েকটি গ্রামে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এবং রেমাক্রী ইউনিয়নের লিটক্রে ম্রোপাড়া, সূর্যমণি ত্রিপুরাপাড়া, ছোট ইয়াংব পাড়া, রেনি ম্রোপাড়া ও মানয়া ম্রোপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামগুলোতে হাম-রুবেলার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে ডায়রিয়া, জ্বর ও শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগের উপসর্গও দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক নুমংপ্রু মারমা ও উজিরাম ত্রিপুরা জানান, দুর্গম সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে হামের সঙ্গে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। নৌপথের কিছু এলাকায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছালেও সড়কপথের দুর্গম গ্রামগুলো এখনো সেবাবঞ্চিত। সেখানে জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো প্রয়োজন।
রেমাক্রী ইউপি সদস্য মাংচং ম্রো জানান, পার্শ্ববর্তী আলীকদম উপজেলার কুরুপপাতা এলাকা থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ছুটিতে নিজ গ্রামে ফেরার পর প্রথমে হাম-রুবেলার উপসর্গ দেখা দেয়। পরবর্তীতে অল্প সময়ের ব্যবধানে সংক্রমণ বিভিন্ন পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে উচ্চ জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, দুর্বলতা এবং ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা প্রদানে বর্তমানে হামে আক্রান্তরা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসছে।
এদিকে তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা জানান, আমার ইউনিয়নের নৌপথের গ্রামগুলো আপাতত সংক্রমণমুক্ত থাকলেও সড়কপথে গ্রামগুলোতে নতুন করে হামে আক্রান্ত হচ্ছে। সেখানে হামে ঝুঁকি বেড়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা প্রয়োজন।
রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা রনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে আগে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লেও স্বাস্থ্য বিভাগের জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে কয়েকটি পাড়ায় ডায়রিয়ার আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন। সেখানে শিশু ও বয়স্কদের ডায়রিয়ার প্রকোপ অব্যাহত থাকায় নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ জানান, লিটক্রে এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত দুর্গম। থানচি সদর থেকে সাঙ্গু নদীপথে ইঞ্জিন বোটে পৌঁছাতে প্রায় দুই দিন সময় লাগে। ফলে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আক্রান্ত এলাকায় অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করেছি। তিনি আরো বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে আক্রান্ত এলাকায় অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন ও বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে যাওয়ার আগেই স্বাস্থ্য বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে বলে স্থানীয়রাও আহ্বান জানিয়েছেন।