শিরোনাম
রাঙ্গামাটিতে দীপন তালুকদার দীপুকে-ই চেয়ারম্যান হিসেবে চায় বিএনপি পরিবারের অনেকেখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ভারসাম্যহীন ব্যক্তির লাশ উদ্ধারখাগড়াছড়ির পানছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারকাপ্তাইয়ে মৎস্যজীবিদের মাঝে ভিজিএফ এর চাল বিতরণরাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে আগুনে পুড়ে ছাই অংথইউ খিয়াং এর ঘরবাবার ক্যান্সারে ও স্ত্রী প্যারালাইসিসে আক্রান্ত অর্থ সংকটে তনচংগ্যা পরিবারহাতির অবাধ বিচরণ, হাতি সূরক্ষা সহ হাতির করিডর সচল রাখতে হবেরাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা, মাদক সেবনকারীকে জেলদূর্যোগ হল দুটি তারমধ্যে একটি প্রাকৃতিক অন্যটি হল মানব সৃষ্ট দূর্যোগমানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে পানি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: সাচিং প্রু জেরী

রাঙ্গামাটিতে দীপন তালুকদার দীপুকে-ই চেয়ারম্যান হিসেবে চায় বিএনপি পরিবারের অনেকে

॥ মিলটন বড়ুয়া ॥
রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির পরিবার তথা তৃণমূল নেতৃবৃন্দের অনেকে-ই চেয়ারম্যান হিসেবে চায় দীপন তালুকদার দীপুকে-ই। রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের নতুন পরিষদ গঠন করা হলে জেলা বিএনপির ত্যাগী এই সভাপতি চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত হলে দল এবং দলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করবে বলে তাদের বিশ্বাস। জাতীয়তাবাদী দলে বিশ্বাসী এবং আপদে বিপদে দলের অন্যদের চেয়ে যিনি বেশী ত্যাগী এবং নেতৃত্ববান্ধব তিনি হলেন দীপন তালুকদার দীপু। বিএনপির অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ এবং কর্মী ও সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছেন এই ত্যাগী নেতার মূল্যায়ন করা না হলে আত্মক্ষোভে বিভাজনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে দলে।

এদিকে জেলা বিএনপির নের্তত্বস্থানীয় অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, খুব শীগ্রই পার্বত্য তিন জেলা পরিষদের অন্তবর্তী পরিষদকে বিদায় জানানো হবে সেই সাথে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি)র নের্তৃত্বে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় সরকারের অধীন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে জেলা পরিষদগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে পরিচালনা করে আসলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে অন্তবর্তী সরকারের মনোনীত সেই পরিষদ এখনো বহাল রয়েছে। নির্বাচনের পরে জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃবৃন্দরা আশা করেছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান খুব দ্রুতই তিন জেলা পরিষদ নতুন করে মনোনীত পরিষদ গঠন করবেন কিন্তু এক-দুই তিন সপ্তাহ এমনকি তিন মাস অতিক্রম হয়ে গেছে কিন্তু মন্ত্রী এখনো সরকারদলের মনোনীত পরিষদ করতে পারেননি। তাই তিন জেলায় জাতীয়তাবাদী দলের নের্তৃবৃন্দের মাঝে ক্ষোভের দানা বাঁধছে। তাছাড়াও জেলার অন্যান্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক দল-সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও চায় জনসম্পৃক্ত এমনদের নেতৃত্বে পরিষদগুলো গঠিত হোক। তাই জেলা বিএনপির নেতারা আর অপেক্ষার দিন গুনতে রাজি নয়। পবিত্র ঈদ-উল আজহার পর পরই জেলা পরিষদগুলোতে দলের ত্যাগী এবং যোগ্য নেতাদের দিয়ে মনোনীত পরিষদ দেখতে চায়।

অন্যদিকে রাঙ্গামাটি জেলা দলের নাম প্রকাশে অনিশ্চুক সিনিয়র অনেক নেতা বলেছেন, বিপদের সময়, দলের কার্যক্রমে বাধাগ্রস্তের সময় যারা পার্টির অফিসে পর্যন্ত আসেননি এখন তাদের অনেকই জাতীয়তাবাদী দলের অংগসংগঠনেরও ত্যাগী নেতা দাবি করে মন্ত্রীর পিছনে ঘুরঘুর করছেন। কেউ কেউতো উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারে বসার কলকাঠিও নাড়ছেন। কিন্তু তাঁদের ভাবতে হবে দলের অতীত সময়ে নের্তৃত্বে কারা মামলা হামলার শিকার হয়েছে, নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে দলের স্বার্থে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে। তাই সুবিদাবাদীদের নয় বরং দলের জন্য যারা প্রকৃত ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদেরকেই সরকারের জনপ্রতিনিধিত্ব উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে যোগ্য চেয়ার দিতে হবে। এসব নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে দলের নেতৃবৃন্দ অনেকেই মামলা হামলা এমনকি জনস্বার্থে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পর্যন্ত চালাতে পারেনি। কিন্তু রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি’র নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী সময় দিয়েছেন ত্যাগ স্বীকার করেছেন, ভয়কে উপেক্ষা করে দলের কার্যক্রম চালিয়েছেন তিনি হলেন বর্তমান সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু। এমনও সময় গেছে তিনি পুরাতন মোটরসাইকেল নিয়ে অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো পোষাক পড়ে দলের কাজে ও নেতৃত্বে পার্টি অফিসে সময় দিয়েছেন নেতৃত্ব দিয়ে দলকে ঠিক রাখার কাজ চালিয়েছেন এখন তাঁকে যদি সম্মান দেওয়া না হয় তাতে স্বাভাবিকভাবেই দলের বহুনেতাদের মাঝে আত্মক্ষোভে বিভাজনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। দীর্ঘ ১৫ বছরের অধীক সময় ধরে জাতীয়তাবাদী দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা ছিল অসহায়ের মতো এখন সময় এসেছে দেশ, জনগন এবং দলের উন্নয়নে কাজ করতে।
নেতৃবৃন্দরা আরো বলেন, সাবেক সভাপতি শাহ আলমের মৃত্যুর পর দলের সভাপতির দায়িত্ব পান দীপন তালুকদার দীপু, বিপদের সময়ে বিএনপির অনেকের মধ্যে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মামুনুর রশিদ মামুন, সাবেক উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান, বর্তমান মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম ফুট্টো, এ্যাড. সাইফুল ইসলাম পনির, মাহবুবুল বাসেত অপু, যুবদলের বর্তমান সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মোঃ নুর নবী, কৃষক দলের নেতা রিন্টু বড়ুয়া, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাব্বির আহমেদ এর নের্তৃত্বে ছাত্র নেতার বড় একটি অংশ সহ আরো অনেকেই আছেন যারা সব কিছুকে উপেক্ষা করে দলের জন্যই কাজ করেছেন তাই এখন সময় এসেছে তাদের মূল্যায়ন করা। তারা বলেন, পবিত্র ঈদ উল আযহার পর পরই তিন জেলা পরিষদে মনোনীত পরিষদ গঠন করা হবে। আমরা চাই রাঙ্গামাটিতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দীপন তালুকদার দীপুকে-ই দেখতে। যারা মন্ত্রণালয়ে এবং বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রেখে জনউন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারে বসার উঁকি মারছেন তাদের বিষয়ে জেলা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নীতিনির্ধারকরা খেয়াল রাখবেন এটাও আশা করছি।

অপর দিকে বাম দলগুলোর কিছু নেতাকর্মীরাও বলেছেন, যেহেতু পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে নির্বাচনের সুযোগ এখনো হয়নি। সেক্ষেত্রে যে সরকারই আসুক না কেন তারা তাঁদের মতো করেই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ড এবং শারনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স এর নের্তৃত্বে তাদেরই দলের যাকে যোগ্য মনে করেছেন তাকেই দায়িত্ব দিয়েছেন। বর্তমান সরকারও তাই করবে, তবে এখানে বড় বিষয় হলো দলের যারা বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে পরিপূরকভাবে জড়িত ছিল সকল বিপদ উপেক্ষা করে জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমকে চালিয়ে গেছে তাদের সম্মান দেওয়া দরকার। এখানে খেয়াল রাখতে হবে অন্যের শেখানো, পাতানো বা অযাচিতপূর্বক বসিয়ে দেওয়া নের্তৃত্বকে যাহাতে আসতে দেওয়া না হয়। কেননা পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে বিগত অন্তবর্তী সরকারের মনোনীত পরিষদের বেলায় অযাচিতপূর্বক দেওয়া হয়েছে নের্তৃত্ব এতে তারা তাঁদের মতো করেই চলে আসছে। এই পরিষদের মনোভাব হলো এখানে জনগন বড় কথা নয় কারণ তারা জনগন সমর্থিত নয় বলে। তবে আমরা গণতান্ত্রিকভাবে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচনের ব্যবস্থা সরকার করবে এটাই দাবি করছি। আর তখন জনগনের সরাসরি ভোটে নের্তৃত্ব নির্ধারিত হবে। এতে জননেতা দাবিদার অনির্বাচিতদের উঁকি ঝুঁকি আর অযাচিতদের চেয়ারে বসা বা বাসানোর দিন ফুরিয়ে যাবে বলে।