শিরোনাম
খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শনে তদন্ত কমিটিপার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় উৎসবগুলো আমাদের ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়লংগদুতে বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনালংগদুতে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিতবর্ণিল আয়োজনে কাপ্তাইয়ে বৈশাখ বরণ, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানহাসপাতাল নিজেই মাটির সাথে ল্যাপ্টে পড়ে আছে, সেবা বঞ্চিত ২০ হাজার মানুষখাগড়াছড়ির দিঘীনালায় বর্ষবরণ উপলক্ষে বৈশাখী’র আনন্দ শোভাযাত্রাপাহাড়ি ও বাঙালির সম্মিলিত অংশগ্রহণ সত্যিই প্রশংসনীয়: ব্রিগেডিয়ার নুরুল আমিনরাঙ্গামাটিতে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠির বৈসু উৎসবে নদীতে ভাসানো হয়েছে ফুলবাঘাইছড়ির বাঘাইহাটস্থ এতিমখানায় সেনাবাহিনীর খাদ্যদ্রব্য বিতরণ

ক্যান্সারে আক্রান্ত ঋতুপর্ণা চাকমার ‘মা’ অর্থের অভাবে চিকিৎসাও হচ্ছে না

১০

॥ মোহাম্মদ আলী ॥
জাতীয় নারী ফুটবল দলের আলোড়ন সৃষ্টিকারি তারকা ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার ‘মা’ ভূজোপতি চাকমা দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। অথের্র অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেনা তিনি। বর্তমানে কঠিন এ রোগ নিয়ে ভুগছেন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী এই নারী ফুটবলারের মমতাময়ী মা।

দেশের হয়ে ফুটবল মাঠে দুর্দান্ত খেলা দেখিয়ে দেশের জন্য গৌরব চিনিয়ে আনলেও অর্থাভাবে মাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে পারছেনা উন্নত হাসপাতালে। পুরুষ বিহীন এই পরিবারে জীবনের বাস্তবতা অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাঙ্গামাটির কাউখাালী উপজেলার দুর্গম মগাছড়ি গ্রামে ঋতুপর্ণার জন্ম। মূল সড়ক থেকে তাদের বাড়ি যেতে হলে হাঁটতে হয় প্রায় ৩কিলোমিটার পাহাড়ি পথ। সেই গ্রামের মাটিতেই বেড়ে উঠেছে এই খেলোয়াড়। অভাবের মধ্যেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এখন তাকে নিয়ে গেছে উচ্চ আসরে।

জানা গেছে, পরিবারের ৫জনের মধ্যে ঋতুপর্ণাই একমাত্র উপার্জনক্ষম নারী। তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে, একমাত্র ভাই মারা গেছেন তিন বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে। বাবা বরজ বাঁশি চাকমাও ক্যান্সারে মারা যান। তার মা ভূজোপতি চাকমা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী। উন্নত চিকিৎসা করানো তো দূরের কথা, নিয়মিত ওষুধ ক্রয় করতেও হিমশিম খাচ্ছে তাদের পরিবার। ঋতুর বড় বোন পাম্পী চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, মায়ের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছি না। তার মার ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়েছে। সরকারের কাছে অনুরোধ যেন মা’য়ের চিকিৎসার জন্য আমাদের পাশে দাঁড়ায়। সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ঋতুদের বাড়ি করে দেয়া ও রাস্তা করার কথা স্থানীয় প্রশাসন থেকে বলা হলেও এখনো পর্যন্ত সরকার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

ঋতুপর্ণা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনা ও ফুটবল এক সঙ্গে মিলিয়ে জীবন ও স্বপ্ন পূরন বাস্তবায়নের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ঋতুপর্ণা। সম্প্রতি এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে দুর্দান্ত খেলেছেন ঋতু। মিয়ানমারের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয়ে দুটি গোলই তার। তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষেও একটি গোল করে। অথচ দেশে ফিরে মায়ের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের জন্য হাহাকার করছেন। ঋতুপর্ণা শুধু একজন ক্রীড়াবিদ নন তিনি পাহাড়ের হাজারো নারীর স্বপ্নের প্রতীক।

এই বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিউর রহমানের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা ঋতুপর্ণার মায়ের ক্যানসারে কথা শুনেছি। কিন্ত আমাদের নিকট কেউ সহায়তা চায়নি। তাদের ঘর করে দেয়ার কথা রয়েছে। যা ইতোমধ্যে সকল প্রকৃয়া সম্পন্ন হয়েছে। সহসা ঘরের কাজ শুরু হবে এবং একই সঙ্গে রাস্তার কাজও সহসা শুরু বলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান।