শিরোনাম
খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শনে তদন্ত কমিটিপার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় উৎসবগুলো আমাদের ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়লংগদুতে বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনালংগদুতে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিতবর্ণিল আয়োজনে কাপ্তাইয়ে বৈশাখ বরণ, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানহাসপাতাল নিজেই মাটির সাথে ল্যাপ্টে পড়ে আছে, সেবা বঞ্চিত ২০ হাজার মানুষখাগড়াছড়ির দিঘীনালায় বর্ষবরণ উপলক্ষে বৈশাখী’র আনন্দ শোভাযাত্রাপাহাড়ি ও বাঙালির সম্মিলিত অংশগ্রহণ সত্যিই প্রশংসনীয়: ব্রিগেডিয়ার নুরুল আমিনরাঙ্গামাটিতে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠির বৈসু উৎসবে নদীতে ভাসানো হয়েছে ফুলবাঘাইছড়ির বাঘাইহাটস্থ এতিমখানায় সেনাবাহিনীর খাদ্যদ্রব্য বিতরণ

পানছিড়িতে ভেজা চোখে রাজকীয় বিদায় জানালেন মসজিদের ইমামকে

১২

‎‎‎॥ মোঃ ইসমাইল, পানছড়ি ॥‎
‎দীর্ঘ ছয় বছর সততা ও আন্তরিকতা দিয়ে ইমামতির দায়িত্ব পালন করে জিয়ানগর বাইতুল আমান জামে মসজিদ থেকে বিদায় নিলেন এলাকার সকলের প্রিয় ইমাম হাফেজ মাওলানা জামিল আহমদ। রবিবার (৬জুলাই) বাদ আছর তাঁর বিদায় উপলক্ষে এক আবেগঘন সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে এলাকাবাসী কান্নাভেজা চোখে ফুলেল ভালোবাসায় বিদায় জানান এই শ্রদ্ধেয় আলেমকে।

‎ইমাম জামিল আহমদ শুধুই মসজিদের ইমাম ছিলেন না। তিনি ছিলেন এলাকার ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক জাগরণের এক বাতিঘর। সুমধুর ক্বেরাত, হৃদয়ছোঁয়া খুতবা এবং বিনয়ী আচরণ দিয়ে তিনি এলাকার সকল শ্রেণির মানুষের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন স্বল্প সময়েই। ছোট থেকে বড় সব বয়সী মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেন ইসলামের শিক্ষার আলো।

‎বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে ইসলামি আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। তাঁর শিক্ষাদান, উপদেশ ও জীবনদর্শন এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষকে উৎসাহিত করেছে সঠিক পথে চলতে। তাই বিদায়ের মুহূর্তে আবেগ সংবরণ করতে পারেননি কেউই। মসজিদের আঙিনা জুড়ে ছিল শত মানুষের কান্না, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক অপূর্ব সমারোহ।

‎বিদায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মধ্যনগর জামে মসজিদের ইমাম ও উল্টাছড়ি ইউনিয়ন আলেম ওলামা কমিটির সভাপতি মুফতি মাওলানা মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, হাফেজ জামিল আহমদের মতো আলেম সমাজে বিরল। তাঁর খেদমত, ইলম ও আখলাক সত্যিই অনুকরণীয়। তিনি আমাদের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

‎অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আরো অনেকেই। বক্তারা বলেন, “তিনি শুধু একজন ইমাম ছিলেন না, ছিলেন নৈতিক অভিভাবক। তাঁর অবদান এলাকার জন্য এক অমূল্য ধন। তিনি ছিলেন আমাদের আলোর দিশারী।”

‎বিদায়ের সময় ফুল দিয়ে সাজানো একটি গাড়িতে সম্মানের সঙ্গে হাফেজ জামিল আহমদকে বিদায় জানান এলাকাবাসী। ছোট শিশুরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি। সেই সময়টাতে পুরো মসজিদ প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা।