খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশা
॥ দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি ॥
খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও অবস্থা খুবই খারাপ। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘ দিনের অভিযোগ আপত্তি লেগেই ছিল। অবশেষে পরিষদের অন্তবর্তি চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে ৩১ শর্যার হাসপাতালটি পর্যাপ্ত ডাক্তার নার্স না থাকা সহ ৫০ বছরের পুরনো এ ভবনের বেহাল দশার প্রত্যক্ষ করলেন।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা সোমবার (৩ মার্চ ২০২৫ খ্রি.) বিকালে হঠাৎ মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের আহবায়ক কুমার সুইচিংপ্রু সাইন, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও বাজার ফান্ড প্রশাসনের আহবায়ক প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রুপময় তঞ্চঙ্গ্যা প্রমূখ।
মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকট এবং জরাজীর্ণ ভবন সহ ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ছাদের পলেস্তরা ঝরে পড়ছে, যা চিকিৎসক, নার্স ও রোগীদের জন্য চরম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিদর্শন শেষে পরিষদ চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা বলেন, মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অনেক পুরোনো এবং এখানে ডাক্তার ও নার্সরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কাজ করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করব।
এর পর, তিনি মহালছড়ি উপজেলার চোংড়াছড়ি তাফফিজুল কুরআন নূরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসা এবং এতিমখানা নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে মাদরাসার শিক্ষার্থী ও কর্তৃপক্ষকে ইফতারের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। এসময় তিনি পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি বজায় রেখে সকলের মধ্যে একতাবদ্ধভাবে বসবাস করার অনুরোধ করেন। এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাদাত হোসাইনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, ৩১ শয্যার হাসপাতালটিতে ১৪ জন চিকিৎসক এবং ১১ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও, বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ৪ জন চিকিৎসক ও ৪ জন নার্স সেবা দিচ্ছেন। এতে করে সেবার মান আরও বিঘ্নিত হচ্ছে। হাসপাতালের জরাজীর্ণ ভবন, যা ১৯৭৯ সালে নির্মিত, বর্তমানে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।