॥ মোঃ ইসমাইল হোসেন, মানিকছড়ি ॥
দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী। প্রজনন মৌসুমে রুই, কাতলা, কালিবাউসসহ মিঠা পানির বহু প্রজাতির মাছ এ নদীতে ডিম দিতে আসে। পোনা সংরক্ষণ ও বিপননের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার অবদান রাখছে। অথচ হালদার গুরুত্ব এখনও আমাদের কাছেই অজানা। সোমবার (৩ মার্চ) সকালে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র উন্নয়ন ও মৎসসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনা সৃৃষ্টির লক্ষ্যে অংশীজনদের উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
সকালে উপজেলা অডিটরিয়ামে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান’র সঞ্চালনায় ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদ’র সভাপতিত্বে এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, হালদা প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া, থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল ও অংশীজন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ এনামুল হক, বাংলাদেশ জামায়াাতে ইসলামীর উপজেলা আমীর মাঃ মনিরুজ্জামানান, নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি এস এম জাহাঙ্গীর আলম ও তামাকচাষী মোঃ কামাল, এরশাদ, হান্নানসহ আরো অনেকে।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, হালদার উজানে তামাক চাষ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও অপরিকল্পিতভাবে বনায়ন ধ্বংস করার মাধ্যমে হালদা নদীকে আমরা ইতোমধ্যে আইসিইউতে পাঠিয়েছি। হালদা নদীর এ অবস্থা থেকে অবশ্যই আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। আইসিইউতে থাকা হালদা নদীকে বাঁচাতে বিকল্প চাষাবাদের উপর গুরুত্ব দিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান। তিনি আরো বলেন, হালদা নদী আমাদের ঐতির্হ্য এবং দেশের সম্পদ, এটি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। তাই হালদার উজানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, তামাক চাষ, পাহাড় কাটা ও নির্বিচারে পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে। নতুবা প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদার স্বাভাবিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদ বলেন, হালদা আমাদের জন্য নেয়ামত। এই নদীর মাছের পোনা প্রায় লাখ টাকায় বিক্রি হয় এবং সে পোনার জন্য অধির আগ্রহে থাকে মৎস্যচাষীরা। দেশের মৎস্য চাহিদা পূরণে হালদার ভূমিকা অপরিসীম। অথচ হালদার ওপর মানবসৃষ্ট দুর্বৃত্তায়ণের ফলে এই হেরিটেজকে আমরা আইসিইউতে পাঠিয়েছি। এ থেকে উত্তোরণের জন্য তামাক চাষীদের বিকল্প চাষাবাদের প্রতি যেমন মনোনিবেশ করতে হবে, তেমনি বালু উত্তোলন বন্ধে ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।