প্রতিহিংসা পরায়ন রাজনীতি-হত্যা বন্ধ করতে হবে
মানব সৃষ্টির পর থেকেই মানুষ তার অধিকার, সৃষ্টি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, মানবতাকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে উন্নয়নের দিকে এগিয়েছে। হাজার হাজার বছর পেরিয়ে মানব সমাজ নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছাচ্ছেন। অধিকার, সৃৃষ্টি, জ্ঞান বিজ্ঞান এবং মানবতার কাজে চিন্তা, সততা, ভাববিনিময়, রাজনীতি এসবকেই কাজে লাগিয়ে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশ স্বাধীনের পর মানুষ তাদের সহযোগীতা, সহমর্মিতা, মানবতাকে কাজে লাগিয়ে ভঙ্গুর দেশকে ধীরে ধীরে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়েছেন। গোটাংলাদেশের চিত্র এদেশের মানুষ জানেন এবং বুঝতেও পারেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল নিঃসন্দেহে পশ্চাতপদ অঞ্চল এখানকার মানুষ হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করেই জীবন জিবীকার লালন পালন করে আসছে। এভাবেই কঠোর পরিশ্রম করতে করতে প্রত্যেকের উন্নয়ন হয়ে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল একটি পশ্চাদপদ অঞ্চল তা এদেশের প্রত্যেক মানুষও জানেন। কিন্তু এ পশ্চাতপদতাও ধীরে ধীরে মোছনেরও চেষ্টা করা হচ্ছে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার এর প্রধানমন্ত্রীর দুরদর্শিতা, সাহসিকতা, মানবতা, সততা সর্বোপরি সুন্দর একটি রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে শান্তিপূর্ন সহাবস্থানের সুদীর্ঘ পথ সুচনা করেছেন। অর্থাৎ তিনি রাজনীতিকে সত্যিকার অর্থে মানুষের কল্যাণেই কাজে লাগানোর একটি দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন।
রাজনীতি মানুষের কল্যাণেই হওয়া উচিৎ। পশ্চাতপদ পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের কল্যাণেই যদি রাজনীতি করা হয় তাহলে সেখানে প্রতিহিংসা পরায়নতা থাকবে কেন। প্রতিপক্ষতার প্রশ্ন কেন, হত্যা বিভাজনের চিন্তা কেন, আধিপত্য বিস্তার এর প্রশ্ন কেন। যেখানে মানবতা সততা, নীতির ভাববিনিময়, সুষ্ঠু রাজনীতিই প্রতিষ্টা করা সম্ভব হয়নি। তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম রাজনৈতিক সুষ্ঠু পরিবেশের দিকেও অনেক অনেক পশ্চাদে রয়েছে। নষ্ট রাজনীতির কারনে এ পশ্চাদপদতা। কিন্তু মানুষের কল্যাণে রাজনীতিতে দুরদর্শিতা, সাহসিকতা, মানবতা, সততা সর্বোপরি সুন্দর রীজনীতির উত্তোরণ ঘটাতে হবে। রাজনীতিতে এখানে প্রতিপক্ষ তৈরী থাকলে প্রতিহিংসা প্রখড় হবে আর এ প্রতিহিংসা মানুষকে মানুষ গিলেই খাবে। সুষ্ঠু রাজনীতি জ্ঞানের চর্চা না থাকায় এখানে প্রতিনিয়ত এসব ঘটেই যাচ্ছে। রাজনীতিকে মনুষের অকল্যাণে ব্যবহার করার কারনে, সততাকে কাজে না লাগানোর কারনে এখানে এখন রাজনীতি মানুষ, সমাজ এবং সভ্যতার বিরুদ্ধেই দাঁড়াচ্ছে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিহিংসা পরায়ন রাজনীতির সার্বক্ষনিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যার কারনে প্রতিহিংসা পরায়নতার ফসল হলো অকালে প্রাণ হানি।
গেল সপ্তাহের মঙ্গলবারে রাঙ্গামাটির বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের কিচিং আদাম এলাকায় অস্ত্রধারীদের গুলিতে আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতির এক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সেখানে সাংগঠিক কাজ করছিলেন বলে থানা সুত্রগুলো গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তার আগে আরো আরো ঘটনাগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের পাশাপাশি সমতল অঞ্চলের অনেকেই জানেন। অর্থাৎ এগুলো হলে সেই নষ্ট রাজনীতি, আধিপত্য, মানবতাহীন, রাজনৈতিক সভ্যতার বিরুদ্ধাচরণ। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই যুগ পার হলো নানান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরদাতা প্রতিষ্ঠান পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রধান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা প্রকাশ সন্তু লারমা অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বড় কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারের মন্ত্রী,এমপি, প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন চুক্তির ফলে এখানে উন্নয়ন এবং শান্তির সুফল বইছে। তবে হ্যাঁ এখানে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে, সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উন্নয়নে সাহনুভুতিতে কোন কৃপণতাও দেখান না। কিন্তু প্রশ্ন থাকছে কেন প্রতিহিংসার রাজনীতি এখানে বন্ধ হচ্ছে না। কিন্তু রাষ্ট্রের, মানুষের, সামজের এবং জ্ঞানের রাজনীতির কল্যাণে প্রতিহিংসা পরায়ন রাজনীতি-হত্যা বন্ধ করতে হবে।