প্রকৃতি-পরিবেশ এবং বণ্যপ্রাণীগুলোর জন্য বন ও পাহাড় রক্ষা করতেই হবে
অবাধে বন জঙ্গল এবং পাহাড় কাটার কারণে বননির্ভর প্রাণী আর জীববৈচিত্র্য চরম হুমকীর মূখেই যাচ্ছে। অযাচিতভাবে বন আর পাহাড় কেটে ফেলার কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে চলেছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং মানব সমাজের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাহাড় পর্বতগুলো যেমন নিজের মতো করে দন্ডায়মান তেমনি বনবনানীগুলোরও একই অবস্থান। কিন্তু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ন প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট এসব সম্পদগুলো রক্ষায় প্রশাসনসহ দেশের পরিবেশবিদরা যদি এগিয়ে না আসে প্রশাসনের আইনগুলো যদি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা না হয় তাহলে প্রকৃতি যখন তাঁর বিপদগামীর বার্তা শুরু করবে তখন চরম ক্ষতি হয়ে যাবে মানব সমাজের। কেননা নিজের অজান্তে, একক স্বার্থে মানুষ পাহাড় পর্বত কেটে, বনবনানী কেটে উজার করে প্রকৃতি এবং তার নির্ভর পরিবেশকে চরমপর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে তাতে বিপদ বাড়তেই থাকবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রশাসনের জানা অজানার মধ্যে যে ভাবে পাহাড় পর্বত বনবনানী কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে তাতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ প্রাকৃতিক পরিবেশ চরম আকার ধারণ করবে। জানা গেছে গত এক দশকে শুধুমাত্র খাগড়াছড়িতেই শতাধিক পাহাড় পর্বত কেটে সমতল ভুমিতে পরিণত করা হয়েছে। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয় এবং কোন কোন সময় অর্থদন্ড দেয়া হয় কিন্তু সম্পূর্ন বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয় না। যার কারনে ভুমিদস্যু বা প্রভাবশালী মহল তাদের ইচ্ছেমত করেই পাহাড় পর্বতগুলো কেটেই যাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন গত এক দশকে বনবনানীসহ শতাধিক পাহাড় কেটে সমতলে পরিণত করা হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলে। আইন থাকলেও প্রশাসনের কঠোর নজরদারির অভাবে প্রভাবশালীরাই এসব পাহাড় কেটে সমতলে রূপান্তর করেছে।
এখনও অব্যাহত রয়েছে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালীদের পাহাড় কাটা। এর ফলে পরিবেশ যেমন বিপর্যস্ত হচ্ছে, তেমনি কমছে জঙ্গল, পশু-পাখি হারাচ্ছে আবাসস্থল। পরিবেশকর্মীরা বারবার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে পাহাড় কাটা বন্ধের আহবান জানালেও এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি কম বলে তারা দাবি করছেন। মাঝে মাঝে দু’একবার অভিযান চালিয়ে, দু’চারজনকে জেল-জরিমানা করেই নিজেদের কাজ শেষ করছে। তবে পরিবেশকর্মীদের আশঙ্কা, এভাবে পাহাড় কাটা চলমান থাকলে আরও হুমকির মুখে পড়বে পরিবেশ পরিস্থিতি। পরিবেশের ভারসাম্য এবং বনবনানী রক্ষায় প্রশাসনকে আইনীভাবে আরো শক্ত অবস্থানে যেতে হবে বলে তারা মনে করনে। বিভিন্ন সময় প্রশাসনের পক্ষ হতে অভিযান চালিয়ে, মোবাইল কোট বসিয়ে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। কিনন্ত এর পরও অনেকে প্রশাসনকে এবং পরিবেশের আইনকে অমান্য কওে তাদেও কাজ চালিয়েই যাচ্ছে।
দেশের পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো পাহাড় বাঁচানোর জন্য তারা দীর্ঘ সময় ধরেই আন্দোলন করে আসছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন রকমের পরিকল্পনা ছাড়াই এসব কাজ করা হচ্ছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়নের নামেও শত শত পাহাড় কাটা হয়েছে। অথচ একটু ভেবে কাজ করলে পাহাড় না কেটেই এসব উন্নয়ন কাজগুলো করা যেত। এছাড়াও পার্বত্য অঞ্চলে ইটভাটার মালিকরা ইট তৈরীর জন্য অপরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে নিচ্ছে বা ক্রয় করছে। এসব বিষয়গুলো পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশবিদদের পরামর্শ সাপেক্ষে করা প্রয়োজন। প্রত্যক নাগরিকই তাদের উন্নয়ন চায় কিন্তু উন্নয়নগুলো পরিবেশের সবদিক খেয়াল রেখেই করা উচিৎ। প্রকৃতি-পরিবেশ এবং বণ্যপ্রাণীগুলোর জন্য বন ও পাহাড় রক্ষা করতেই হবে। এজন্য দরকার প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ।