শিরোনাম
এক ইঞ্চি জমিরও সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না: ভূমি প্রতিমন্ত্রীহামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তদের চিকিৎসার যেন ত্রুটি না হয়- পার্বত্য মন্ত্রীরাঙ্গামাটির বিলাইছড়িতে ক্রীড়া সরঞ্জাম বিরতণকাপ্তাইয়ে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমান আদালতের অর্থ জরিমানাখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধনবিলাইছড়িতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬ উদযাপন, র‌্যালী ও আলোচনা সভাকাপ্তাইয়ে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে আহত অবস্থায় লজ্জাবতী বানর উদ্ধারযতো বেশী প্রচার ততো বেশী উপকার: যুগ্ম ও দায়রা জজখাগড়াছড়ির মানিকছড়ি ইউএনও-এসিল্যান্ডকে অপসারণের দাবিলংগদু সেনা জোনের উদ্যোগে অসহায় পরিবারদের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ

রাঙ্গামাটির লংগদুতে স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের মানবেতর জীবন যাপন

৫৯

॥ মোঃ আলমগীর হোসেন, লংগদু ॥

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউনে লকডাউনে দেশজুরে বন্ধ রয়েছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্ধ রয়েছে বেসরকারি উদ্যেগে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও। রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ। এসকল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা আর্থিক সংকট নিয়ে কঠিন সময় পার করছেন। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারীগণ ।

লংগদু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, লংগদুতে বেসরকারি প্রাইমারী স্কুল রয়েছে ১৯টি। এসব স্কুলের দুই শতাধিক শিক্ষক কর্মচারীর রয়েছেন। লংগদু বিদ্যানিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক, স্বপন চাকমা বলেন, করোনা সংক্রমণ এড়াতে সরকারি নির্দেশনায় গত ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতনটাও নেওয়া যায়নি। এছাড়া বেশির ভাগ স্কুলের বিদ্যুৎ বিলও দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের ফান্ডের জমানো টাকাও শেষ। তাই প্রায় দেড় বছর যাবত ১০ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বন্ধ। লজ্জায় কাউকে বলতেও পারছিন না। ফলে স্কুলগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা করোনাকালে মহাকষ্টে আছেন। অন্যদিকে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক সকল কর্মসুচী বাস্তবায়ন করে আসছি। সরকারি বিদ্যালয়গুলো কর্মসুচীর প্রেক্ষিতে বরাদ্দ পেলেও আমরা তা পাইনা।

সর্দার আহমদ আলী মাস্টার স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক মামুন বলেন, শিক্ষার্থীদের দেয়া বেতনেই এসব স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরাও বেতন পান। স্কুল বন্ধ থাকার ফলে চরম সঙ্কটে রয়েছেন এসব স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা। সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেন তাঁরা।

অপর দিকে রাবেতা মডেল রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসাইন বলেন, তাঁদের বিদ্যালয়টি অত্র উপজেলায় প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা-সাংস্কৃতিক, ক্রিড়া সহ সকল ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের স্থান ধরে রেখেছে। বিল্যালয়টি শিক্ষার্থীদের বেতন দিয়েই শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়ে। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে বিদ্যালয় বদ্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের বেতন আদায় করা যাচ্ছেনা। যদিও কমিটি কয়েক মাস ঋণ করে বেতন দিয়েছেন। কিন্ত লম্বা সময় বন্ধ থাকার কারনে তাদের পক্ষে ও বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। শিক্ষকরা কোথাও গিয়ে কাজও করতে পারছেনা আর তাদের খোঁজ খবরও কেউ নিচ্ছেনা। ফলে আমরা এখন চরম অর্থ সংকটে মানবেতর জীবন-যাপন করছি। তিনি সরকার এবং স্থানীয় প্রসাশন ও জনপ্রিতিনিধিদের নিকট আবেদন করবো এসব বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোকে টিকিয়ে রাখতে হলে, শিক্ষক-কর্মচারীদের দিকে সু-দৃষ্টি দেওয়ার জন্য।

এ বিষয়ে লংগদু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইমাম হোসনে এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বেসরকারী প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে সরকারি কোন নির্দেশনা নাই। যদি আসে সেভাবেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।