শিরোনাম
মাটিরাঙ্গায় টেকসই কৃষি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্র্যাকের দিনব্যাপী কর্মশালাপার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি’র সাথে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎবান্দরবনের থানচির নারিকেল পাড়া সড়কের বেহাল দশায় দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের বাসিন্দারাঙ্গামাটির লংগদুতে ৪ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ৬৬৮, অনুপস্থিত- ৮ জনপাহাড়ী দাদুর দুরবীণ হইতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক দাদু’র নিকট খোলা চিঠি-০১খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে পেলোডার চুরির ঘটনায় গ্রেফতার-১বিলাইছড়ি কৃষি বিভাগের পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিতকাপ্তাইয়ে কৃষি বিভাগের ফিল্ড টেকনোলজি ওরিয়েন্টেশনকাপ্তাইয়ে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনসবার আগে বাংলাদেশ তাই দেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে কাজ করতে হবে: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

নানান উছিলায় গ্রাহক হয়রানি

রাঙ্গামটির বাঘাইছড়িতে বিদ্যুৎ বিভ্রান্তি জনমনে অস্বস্তি প্রকাশ

৬১

॥ প্রীতিশ চাকমা, বাঘাইছড়ি ॥

জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ নিয়মিত বিদ্যুৎ না পাওয়া নিয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। নিয়মিত লোড সেডিং, বিদ্যুৎ গেলে আসবে কখন তাও বলা যায় না। হঠাৎ বিদ্যুৎ আসলে অতিরিক্তভোল্ট থাকলে বৈদ্যুতিক সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ নিয়ে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় এটাই নাকি বাস্তব চিত্র।

এদিকে দফায় দফায় বৃষ্টি এবং যথেষ্ট গরমও পড়ছে। তারমধ্যে বিদ্যুৎ একবার গেলে আবার কখন যে আসবে কেউ জানেনা। ঘন ঘন লোড শেডিং ও লো-ভল্টেজের কারনে অনেকের ফ্রিজ, টেলিভিশন সহ নানা বৈদ্যতিক যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ছে। তারমধ্যে এছাড়াও গ্রাহকের মিটার রিডিংয়ের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের অভিযোগ রয়েছে অহরহ। জানা গেছে, মারিশ্যা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্র থেকে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরন ও সেবা নিশ্চিত করা হয়। জানা যায়, ওই উপজেলায় প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের বসবাস রয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও যোগাযোগ ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া অত্র এলাকার মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে ১১ হাজারের ( টু পেইজ) ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক লাইনকে, ফোর ফেইজ ৩৩ হাজার কেভি সাব-ষ্টেশন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উন্নিত করে সরকার। বাঘাইছড়িতে সর্বপ্রথম বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করে চট্রগ্রামের হাটহাজারী জিরো মাইল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। বাঘাইছড়ি থেকে চট্রগ্রামের হাটহাজারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুরত্ব, বেশি ও গ্রাহক হায়রানীর ধরুন সরকার ২০১৬ সালে শেষের দিকে বাঘাইছড়ি উপজেলাকে ৩৩ হাজার কেভি ভোল্টের (ফোর ফেইজ) লাইনের সাব-ষ্টেশনে উন্নিত করা হয় কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রস্থল থেকে।

জানা যায়, বর্তমানে কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত পূর্বক খাগড়াছড়ির ঠাকুর ছড়া স্থলাভিষক্ত বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্র থেকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সাব-ষ্টেশন ও দীঘিনালা বিদ্যুৎ সাব-ষ্টেশন থেকে বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ স্থাপন করা হয়। সূত্রমতে, বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বৈধ বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্র বাঘাইছড়ির মারিশ্যা সাব-ষ্টেশন কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। সামান্য বৃষ্টিপাত বা বাতাস হলে বিদ্যুৎ মিলেনা বাঘাইছড়ি বাসীর ভাগ্যে। কোন কারন ছাড়াই এখানে বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করে, প্রাকৃতিক পরিবেশ স্থিথিশীল হলেও আলো জ্বলেনা, এই উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ একবার বিচ্ছিন্ন হলে আবার কখন বিদ্যুৎ আসবে বিদ্যুৎ বিভাগ জানাতে পারে না। কখনো কখনো দোষ চাপিয়ে দেওয়া হয় দীঘিনালা বিদ্যুৎ বিভাগের উপর। অথচ দীঘিনালা বিদ্যুৎ বিভাগ কিছুই জানেনা এব্যাপারে মারিশ্যা বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে যদি বলা হয় ফিটার সুইচ বন্ধ রাখতে ঠিক তখন তারা এই দায়িত্ব টুকু পালন করে বলে জানা গেছে। সংযোগ লাইনের কোথায় ফল্ট হয়েছে তা ক্ষতিয়ে না দেখে নিজেদের মন গড়া ভাবে চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিচ্ছিন্ন করন। অনেক গ্রাহ অভিযোগ করেছে, বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গেলে সরকারী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি মূল্যের বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোন কোন এলাকার বিদ্যুতিক ট্রান্সমিটার নষ্ট হলে এলাকাবাসী থেকে টাকা উত্তোলন করে ৬০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে উক্ত স্থানে ট্রান্সমিটার বসানো হচ্ছে। উপজেলায় অসংখ্য ভৌতিক লাইন চালু রাখার ফলে প্রকৃত বৈধ সংযোগকারীদের গুনতে হয় নিজ মিটার রিডিংয়ের বেশি বিদ্যুৎ বিল।

স্থানীয়রা জানায়, বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সহযোগীতায় বাঘাইছড়িতে বিভিন্ন স-মিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যক্তি বিশেষের ক্ষমতার দাপটে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করে নির্ভয়ে বৈদ্যতিক লাইন চালু রাখে এবং মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। নানান উছিলায় গ্রাহক হয়রানি সহ বৈধ গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভের দানা বাঁধছে।

এব্যাপারে, মারিশ্যা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসিক কর্মকর্তা (আর -ই) সুগতম চাকমা, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা দীঘিনালা বিদ্যুৎ বিভাগের উপর দায় চাপিয়ে বলেন, ইতিমধ্যে মারিশ্যা, দীঘিনালা ও খাগড়াছড়ির বৈদ্যুতিক লাইনের পার্শ্বে গাছ কাটা শুরু হয়েছে। এখন থেকে যথাসময়ে গ্রাহকের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ নিশ্চিত হবে বলে তিনি জানান।