শিরোনাম
কাপ্তাইয়ে ফরেস্ট গার্ডদের বেসিক প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণশিক্ষার্থীদের মাদক ও খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে: প্রকৌশলী মাহামুদ হাসানসাজেকের প্রত্যন্ত জারুলছড়িতে সেনাবাহিনীর মানবিক চিকিৎসা সেবাবান্দরবানের থানচিতে সীমান্তবর্তী বড় মদকে হাসপাতাল স্থাপনের দাবিখাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অতিথি ডটকমের সংবর্ধনাআপনাদের তুলে ধরা সমস্যা সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন: পার্বত্য মন্ত্রীকেপিএম সহ রুগ্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুজ্জীবিত করবে সরকার: বিসিআইসি চেয়ারম্যানফ্যামিলি কার্ড এর তথ্য সংগ্রহকারীদের কাপ্তাইয়ে প্রশিক্ষণকাপ্তাইয়ে ১৩ লিটার চোলাই মদসহ যুবক গ্রেফতারবান্দরবানের রোয়াংছড়িতে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

বান্দরবানের থানচিতে সীমান্তবর্তী বড় মদকে হাসপাতাল স্থাপনের দাবি

৪

॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বড় মদকে প্রতিবছর হাম, টাইফয়েড, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দিলেও নেই কোনো স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে গুরুতর রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে সাধারণ রোগও জটিল হয়ে পড়ছে, ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও। এ পরিস্থিতিতে বড় মদকে দ্রুত সরকারি উদ্যোগে একটি হাসপাতাল স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকলেও দুর্গম এই জনপদে গড়ে ওঠেনি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য অবকাঠামো। অসুস্থ হলে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করতে হয়। গুরুতর রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ পাহাড়ি পথ ও নৌপথ। যাতায়াতের দীর্ঘ সময় ক্ষেপনের ফলে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, ঘটছে মৃত্যুও।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী ছোট মদক ও বড় মদকের প্রায় ৬০টি গ্রামে ১০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। অথচ এলাকাটিতে নেই স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা সহজ যোগাযোগব্যবস্থা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়লেও দ্রুত চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানান, বড় মদকের মানুষ বছরের পর বছর চিকিৎসাসেবা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন। হাম, টাইফয়েড ও ডায়রিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হলেও নেই কার্যকর চিকিৎসাকেন্দ্র। সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে ঘটছে প্রাণহানি। এই চিকিৎসাবঞ্চনার অবসানে দ্রুত বড় মদকে সরকারি হাসপাতাল স্থাপনের দাবি জানান স্থানীয়রা।

এদিকে বড় মদকের বাসিন্দা মংমে মারমা, উসাইশৈ মারমা, উশৈওয়াং মারমা ও চপ্রুঅং মারমাসহ অনেকেই বলছেন, জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রায় ৭০ কিলোমিটার দুর্গম নৌপথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। এতে আট ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। ফলে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। গত মাসেও ডায়রিয়ায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

তারা আরো বলেন, সাময়িক চিকিৎসা কার্যক্রম দিয়ে এই এলাকার দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। সীমান্তবর্তী দুর্গম জনপদের মানুষের চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করতে বড় মদকে স্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন এখন জরুরি।

রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা (রনি) বলেন, বড় মদকে প্রতিবছর পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। জরুরি চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুও ঘটছে। দুর্গম যোগাযোগের কারণে সংকটাপন্ন রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না।

তিনি আরো বলেন, চিকিৎসাসেবা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জন্য বড় মদকে একটি হাসপাতাল স্থাপন জরুরি। সরকারি উদ্যোগে হাসপাতালটি স্থাপন করা হলে বড় মদক, ছোট মদকসহ সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ জরুরি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, রেমাক্রী ইউনিয়নের দুর্গম ও গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী এলাকার হচ্ছে বড় মদক। সেখানে হাসপাতাল স্থাপন করা হলে বুলুপাড়া, আন্ধারমানিক, ছোট মদক, বড় মদকসহ তিন্দু ইউনিয়নের আশপাশের দুর্গম এলাকার মানুষও দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাবে।

তিনি আরো বলেন, হাসপাতাল স্থাপনের দাবিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, পাড়াপ্রধান ও তরুণরা স্বাস্থ্য বিভাগে আবেদন করেছেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বড় মদকে হাসপাতাল স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রস্তাব ও প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো সিন্ধান্ত নিয়েছি।