পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার রোডম্যাপ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি
॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়ে বর্তমান সরকারের একের পর এক একতরফাভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি লংঘন, আইন ও জনবিচ্ছিন্ন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারণের উদ্যোগে “সমাবেশ, মানববন্ধন সহ প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী এঁর মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এছাড়াও সকাল সাড়ে ১০ঘটিকায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গনে পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ এর আয়োজনে এক সমাবেশ করা হয়েছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চটগ্রামের নাগরিক সমাজের অন্যতম ব্যক্তি অব: উপসচিব শ্রী প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শ্রী শিশির চাকমা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও পাবর্ত্য চটগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্কে সহ সভাপতি শ্রী এ্যাড: ভবতোষ দেওয়ান, বাংলাদেশের হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ রাঙ্গামাটির জেলা শাখা সহ সভাপতি শ্রী স্বপ্নন মল্লিক, বাংলাদেশ খ্রিস্টান এসোসিয়েশন রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সহ সভাপতি শ্রী লোমা লুসাই, অব:সরকারি কর্মকর্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি শ্রী ইন্দু লাল চাকমা, সাবেক বিলাইছড়ি উপজেলার ভাইচ চেয়ারম্যান শ্রীমতি শ্যামা চাকমা ও উপস্থাপনা করেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি শ্রী ইন্টু মনি তালুকদার।
সমাবেশ থেকে চারটি দাবি উত্তাপন করার হয়। যার মধ্যে ১) মীর হেলাল উদ্দিনকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হতে অন্যত্র পদায়ন করা এবং চুক্তি লংঘন না করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কোন প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী নিয়োগ না দেওয়া। ২) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিনকে তিন পার্বত্য জেলার আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন,স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যানমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলী তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব হতে অব্যাহতি প্রদান করা। ৩) পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে রাজনৈতিক ভাবে সমাধানের লক্ষে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের বৈধ ও উপযুক্ত প্রতিনিধির সাথে আলোচনা করে গঠিত তিনটি কমিটি: (ক) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, (খ) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি ও (গ) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি সমূহের কার্যক্রম বাতিলকরণসহ,সরকারের উচ্চ পযার্য়ের তিনটি কমিটির ১) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা কমিটি ২) পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি ; ও ৩) ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নিদিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স; পুনর্গঠন করা। ৪) পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার রোডম্যাপ ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে মেনে নিতে পারেনি। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা একটি জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা। এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সম্পাদন করা হয়। এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিেিয় আনার ক্ষেত্রে ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে তা দ্রুত সমাধানেরও আহআন জানানো হয়েছে।