॥ মোঃ সোহেল রানা, দীঘিনালা ॥
পাহাড়ের ভিয়েতনামী লংগান (লিচু) চাষ করে সফলতা অর্জন করেছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা সফল কৃষি উদ্যোক্তা প্রিয়দর্শী চাকমা। দীর্ঘ পাঁচ বছর অপেক্ষা করে এবার ভালো ফলন দেওয়ায় উদ্যোক্তার মুখে যেমন হাঁসি তেমনি অন্যদেরও এই উদ্যোগ নেওয়ার উৎসাহ দেখাচ্ছে। ভিন দেশের এই লিচু চাষ করে এবার দেশের মানুষ এর পুষ্টি গ্রহন করতে পারবে বলে কৃষকদের মাঝেও উৎসাহ যোগাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি দীঘিনালা উপজেলার একজন কৃষি উদ্দোক্তা প্রিয়র্দশী চাকমা। তিনি বন্ধুর মাধ্যমে দিনাজপুর থেকে লংগান চারা এনে ৫বছর আগে পরীক্ষামূলক ভাবে নিজের জমিতে রোপন করেন। দেখলাম প্রচুর ফলন ধরেছে। তিনি প্রতি কেজি লাংগাম বিক্রি করছেন ৫/৬ শত টাকায়। সমতলে লংগান ফলের দাম ১হাজার থেকে ১২শত টাকাও ধরে বিক্রি হয়। তাঁর চাষ করা লাংগাম (লিচু) ফল পাহাড়েও সফলতা আনতে পারে। ভিয়েতনামী লংগান বিদেশি জাতের ফল হলেও দেখতে বাংলাদেশের লিচুরমতই স্বাদ। লংগান ফল যেমন রসালো তেমনি মাংসে পরিমাণ বেশি এর বীচি একেবারে ছোট আবার নাই বললেই চলে। তবে লংগান বছরে দুইবার ফলন দেয়। লাংগান (লিচু) পাহাড়ের ব্যাপকভাবে চাষ হলে সম্ভাবনার আরেক অর্থকারী ফল হিসেবে কৃষিখাতে জায়গা করে নেবে নিঃসন্দেহে।
তরুণ কৃষি উদ্যোক্তার সাথে কথা হলে প্রিয়দর্শী চাকমা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও ইউটিউব ভিডিও দেখে তাঁরও লংগান চাষ করতে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। পাহাড়ে লংগান হবে কি না এই ভেবে দিনাজপুরে আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে যোগাযোগ করে প্রতিপিচ লংগান চারা ১২শত টাকা করে ৫/৬টি চারা নিয়ে এসে পাহাড়ে মাটিতে পরীক্ষামূলক রোপন করছিলাম ৫বছর আগে। লংগান লাগানোর পরে তেমন কোন যতœ নিতে হয় নাই। এবছর লংগান (লিচু) গাছে প্রচুর ফলন হয়েছে। গাছে সার কীটনাশক কিছুই দিতে হয় নাই। ভিয়েতনামী লংগান ভালই ফলন হয়েছে, প্রতি কেজি ৫/৬শত টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করছি। পাহাড়ের মাটি লংগান ফল চাষের জন্য উপযোগী মনে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বানিজ্যিকভাবে লংগান ফল চাষ করলে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর বলেও উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাত হোসেন ভিয়েতনামী লংগান (লিচু) চাষ সম্পর্কে বলেন, লংগান ভিয়েতনামী বিদেশি লিচু জাতীয় ফল। উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন সি এবং এন্টিঅক্সাইড থাকার কারনে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। স্থানীয় বাজারে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বাজারের এর উচ্চ মূল্যও রয়েছে। তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা ভিয়েতনামী লংগান চাষ করলে কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ সহ অন্যান্য সহযোগীতাও করা হবে বলে তিনি আশ^স্ত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন প্রিয়দর্শী চাকমার মতো কৃষক এবং উদ্যোক্তারাও ভিয়েতনামী লাংগান (লিচু) চাষে এগিয়ে আসুক, কৃষির উন্নয়নে অবদান রাখুক।