বান্দরবনের থানচিতে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত খোলা হয়েছে ১৫ আশ্রয় কেন্দ্র
॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের থানচি উপজেলার সাঙ্গু নদীর পানি দুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। থেমে থেমে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত বাসিন্দাদের অনেক বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও চলাচলের সড়কে পানি ওঠায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে দিন দিন।
এদিকে বন্যার পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। টানা বৃষ্টির বর্ষণে নদীসহ ছড়া ও ঝিরিঝর্ণায় পানির প্রবাহ ও স্রোত কয়েকগুণ বেড়েছে। উপজেলা প্রশাসনে পক্ষথেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাময়িকভাবে ভ্রমণ ও নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, থানচি ও জেলা শহরে যাওয়ার সড়কের বাগানপাড়া এলাকায় বইক্ষ্যং ঝিরি, আপ্রুমংপাড়া যাওয়ার কানাইক্ষ্যং ঝিরি, মেকহা পাড়ার ক্যৌউক্ষ্যং ঝিরি ও সোনাই ঝিরিসহ বিভিন্ন ছড়া, ঝিরিপথের সাঙ্গু নদীর প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলা সদরে সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে।
অন্যদিকে বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনে বিঘœ ঘটায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ এবং নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষামৌসুমে এবার টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কারণে সাঙ্গু নদীর পানি পরিবর্তন হচ্ছে। থানচিবাসীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় বাসিন্দা এবাচিং মারমা, চশৈপ্রু মারমা ও পুসিংমং মারমাসহ অনেকেই জানান, সঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে নদীতীরবর্তী কৃষিজমির বিভিন্ন মৌসুমি ফসল পানির নিচে চলে গেছে। এতে কৃষকদের সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির তীব্রতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
থানচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অংপ্রু ম্রো জানান, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে তাঁর ইউনিয়নের নদতীরবর্তী ফসলি জমি ও ছড়ার তীরবর্তী খামার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে আমন ধান ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১৫টি আশ্রয় কেন্দ্র চালু সহ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।