শিরোনাম
পাহাড় ধসে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বৃদ্ধার মৃত্যু, সতর্কতার জন্য মাইকিংশুধু পুলিশের একক প্রচেষ্টায় সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব নয়কাপ্তাই হ্রদে অভিযান চালিয়ে জব্ধ করা জাল ও নৌকা ৮ জুলাই নিলামে উঠছেখাগড়াছড়িতে সাড়ে ১১ মাসের মাথায় শিশু ধর্ষণ ঘটনায় আসামীর মৃত্যুদন্ডগ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবেরাঙ্গামাটিতে মাহিন্দ্র অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশু নিহত সহ আহত ৫দেশের টেকসই উন্নয়নে পল্লী উনয়নের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হবেজাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসে কাপ্তাইয়ে ২৫ সমবায়ীকে ঋণ ও চারা প্রদানআপনার সফলতা অন্যকেও বলুন: জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীচট্টগ্রাম যন্ত্রশিল্পী সংস্থা’র ভয়েস হান্ট সিজন-৩ প্রস্তুতি সভা

খাগড়াছড়িতে সাড়ে ১১ মাসের মাথায় শিশু ধর্ষণ ঘটনায় আসামীর মৃত্যুদন্ড

॥ মোঃ মাসুদ রানা, রামগড় ॥
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ করার অপরাধে ঘটনার সাথে জড়িত ধর্ষককে মৃত্যুদন্ডের রায় প্রদান করেছেন খাগড়াছড়ির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (৬জুলাই) ধর্ষকের উপস্থিতিতে আদালত এর রায় প্রদান করেন।

আদালত সুত্র জানায়, গত বছরের ২২ জুলাইয় আসামী মোঃ শাহীন (৫৩) নানান প্রলোভন দেখিয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পিছনে নিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর এক মাদরাসা ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের পরিবার বাদী হয়ে মামলা করে খাগড়াছড়ি নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। আদালত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই রায় প্রদান করেন। সোমবার খাগড়াছড়ি জেলা ও দায়রা জর্জ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শায়েলা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্র আরো জানায়, “ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এটিই প্রথম মামলার রায়। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনার মাত্র ১১ মাস ১৪ দিনের মাথায় এ মামলার রায় দেওয়া হলো। মামলা চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষে দশ জন এবং আসামিপক্ষে তিন জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী রামগড় উপজেলার ২ নং পাতাছড়া ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের লেদু মিয়ার ছেলে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভিকটিম রামগড়ের নাকাপা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৫ সালের ২২ জুলাই ঘটনার দিন দুপুরে মাদরাসা ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে নাকাপা বাজারস্থ ‘মিম হোটেল’ নামক দোকানের সামনে পৌঁছালে দোকানদার মোঃ শাহিন তাকে ডেকে ভেতরে নিয়ে যান। আসামি পূর্ব পরিচিত ও স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় সম্পর্কসূত্রে ‘নাতিন’ ডেকে প্রথমে তাকে দোকানে বসিয়ে বিস্কুট ও কেক খেতে দেন।

দোকান থেকে বের হতে দেরি হওয়ায় ভিকটিমে র সহপাঠীরা তাকে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে দোকানে কোনো ক্রেতা বা লোকজনের উপস্থিতি না থাকার সুযোগে, আসামি শাহিন ভিকটিমকে দোকানের পেছনের অংশে বেড়ার আড়ালে নিয়ে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় রামগড় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সৃজনী ত্রিপুরা। রায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল এত দ্রুত রায় দিয়ে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই রায়ের ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার একটি ন্যায়বিচার পেয়েছে।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেদারুল ইসলাম এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।