॥ মোঃ মাসুদ রানা, রামগড় ॥
খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় পাহাড়ী অঞ্চলের কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে কফি চাষে সফলতা অর্জন করেছে।পরীক্ষামূলক ভাবে চাষ করা কফি গাছে ফলন আসায় গবেষকরা মনে করছেন পাহাড়ী অঞ্চল বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এতে করে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন করে অর্থকরী ফসল হিসেবে কফি চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এক সময় কফিকে শুধুই বিদেশি পানীয় হিসেবে ধারণা করা হলেও বর্তমানে দেশের পাহাড়ি এলাকা গুলোতে কফি চাষের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। তারই অংশ হিসেবে রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা মূলকভাবে কফি চাষের গবেষণা চালিয়ে আসছে।
গবেষণা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন বনজ ও ফলদ গাছের মাঝখানে সারি সারি কফি গাছ দৃষ্টি গোচর হচ্ছে। তিন থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতার এসব গাছে তেলতেলে সবুজ পাতা এবং ডাল জুড়ে গুচ্ছ গুচ্ছ সবুজ কফি ফল দেখা গেছে। প্রথম দেখায় অনেকেই এগুলোকে বুনো ফল মনে করলেও প্রকৃতপক্ষে সেগুলো কফির ফল।
গবেষকদের মতে, রামগড়ের পাহাড়ি মাটি, অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত কফি চাষের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। ফলে পরীক্ষামূলক চাষে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে।
রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ এমদাদুল হক বলেন, আমরা কাজু বাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন সম্প্রসারণ প্রকল্প (বারি অংগ) আওতায় পরীক্ষামূলক বাগানের মাটিতে কফি চাষ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছি। পাহাড়ি অঞ্চল কফি চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকরা চাইলে নিশ্চিন্তে কফি চাষ করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কৃষকদের মাঝে কফি চাষ সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।