॥ মোঃ মাসুদ রানা, রামগড় ॥
খাগড়াছড়ির রামগড় সদর ইউনিয়নের গরুকাটা এলাকায় দুই পরিবারের বসত ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুটি গুরু সহ বসতঘর সম্পূর্ণ ভষ্মিভুত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ই আগস্ট) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটি প্রশাসনের কাছে দোষিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গরুকাটা এলাকার বাসিন্দা বারেক সেনের বসত ঘরে আগুন দেওয়া হয়। এতে ঘরটি পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আগুনে ঘরের ভেতরে থাকা দুইটি গরু পুড়ে মারা যায়, ফলে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এ ঘটনার দুই দিন পর শনিবার (১৫আগস্ট) ভোরে একই এলাকার রহমত আলীর বসত বাড়িতেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে তার বসতঘর ও ঘরের মালামাল পুড়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফের সদস্যরা পৃথক এ দুটি ঘটনায় ঘটিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত রহমত আলী অভিযোগ করে বলেন, জঙ্গলে অবস্থানরত আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা তার বাড়িতে এসে আগুন লাগিয়ে দেয়। একই সঙ্গে তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। অপর ক্ষতিগ্রস্ত বারেক সেন বলেন, গভীর রাতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তার ঘরে আগুন দেয়। আগুনে তার দুইটি গরু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে তিনি প্রায় সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
এলাকা বাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন গুলোর হামলা, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতির কারণে গরুকাটা এলাকার বাঙালি পরিবার গুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের দাবি, বারবার এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।
এসব ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর পুনর্বাসন এবং এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।