॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের দ্রুত তদন্তের কারনে অবশেষে বরকলে হত্যাকান্ডের শিকার আয়েশা বেগমের হত্যাকারী দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই সাথে আয়েশার ঘরে রাখা লুন্ঠিত প্রায় দুই লক্ষ টাকাও উদ্ধার করেছে, এছাড়াও হত্যায় ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি ও ইট জব্দ করা হয়েছে। খুনিদের আটকের পর বৃহস্পতিবার (২৫জুন) সকালে রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রাকিব, পিএসসি বিস্তারিত উত্তাপন করেছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দীন, বরকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম সহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলার বরুনাছড়ি এলাকায় গৃহবধূ আয়েশা বেগম (৪৯) হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আয়েশার কাছ থেকে লুণ্ঠিত ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। তিনি জানান, গত ২১ জুন রবিবার রাতে বরকল থানার ১ নম্বর শুভলং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বরুনাছড়ি (ইসলামপুর) এলাকায় নিজ বসতঘরে আয়েশা বেগম (৪৯) হত্যাকান্ডের শিকার হন। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি ইট ও একটি হাতুড়ি সহ অন্যান্য আলামত জব্দ করেছিল।

তিনি আরও জানান, নিহতের ছেলে আশরাফ আলীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে বরকল থানা ও শুভলং পুলিশ ফাঁড়ির সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তিন দিনের মাথায় ২৪ জুন বরুনাছড়ি এলাকার বাসিন্দা মোঃ সোহাগ (১৭) ও ওমর আলী (১৯)কে গ্রেপ্তার করে। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোহাগের বাড়ির ছাদে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ৬ হাজার টাকা এবং ওমর আলীর বাড়ির পাশের করলা বাগানের মাটির নিচে পুঁতে রাখা ৯৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত টাকার মোট পরিমাণ ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা বলে তিনি জানান।
পুলিশের পেশাদারিত্ব, দ্রুত তদন্ত এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকান্ড ও দস্যুতার এই ঘটনার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে আয়েশা বেগমের হত্যাকারীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার ও এলাকার সাধারণ মানুষ।
পুলিশের ব্যাপক তৎপরতায় দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করাতে বরকল উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ বলেও উল্লেখ করেন।