শিরোনাম
বান্দরবনের রোয়াংছড়িতে পিআইও’র দুর্নীতির ফর্দ-তো লম্বাই হচ্ছেশিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণামুখী মানসিকতা তৈরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেরাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণের দাবিতে মানববন্ধনচতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের বিকল্প নেইউদ্ভাবনী চিন্তাকে প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবেরামগড়ে মাদক ও জুয়ার ক্ষতিকর বিষয়ে লিফলেট বিতরণ করলো ছাত্রদলবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে প্রকল্পের কাজ না করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগক্যান্সারে আক্রান্ত অনিল তঞ্চঙ্গ্যার চিকিৎসা সহায়তায় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির রামগড়ের মাস্টার পাড়ায় ৯ মাদকখোর আটকখাগড়ছিড়ির দীঘিনালায় সেনা জোনের মানবিক সহায়তা প্রদান

বান্দরবনের রোয়াংছড়িতে পিআইও’র দুর্নীতির ফর্দ-তো লম্বাই হচ্ছে

১০

॥ হ্লাছোহ্রী মারমা, রোয়াংছড়ি ॥
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিলটন দস্তিদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দিন দিন লম্বা হয়ে উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের আওতায় টিআর, কাবিটা ও কাবিখা কর্মসূচির বিভিন্ন প্রকল্পে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে স্থানীয় জনসাধারণ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশ প্রকল্পের কাজ না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিশেষ করে ২নং তারাছা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে লেগ্রীব্রাং থেকে কমদমপ্রু পাড়া পর্যন্ত রাস্তা পুঃননিরর্মাণ প্রকল্পে প্রায় ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য উমংসিং মারমা অভিযোগ করেন, প্রকল্পটি মূলত পিআইও’র নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে। প্রথম কিস্তির টাকা উত্তোলনের পর প্রকল্পের কাজে অল্প পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হলেও অবশিষ্ট অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য পিআইও বারবার চাপ প্রয়োগ করেন। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তাকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ৪নং ওয়ার্ডেও ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি অংপ্রু হ্লা মারমা। তিনি বলেন, প্রায় আড়াই লাখ টাকার একটি প্রকল্পে কাজ শুরুর পর থেকেই বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। কাজের জন্য সামান্য অর্থ ব্যয় করার পর অবশিষ্ট অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তির বরাদ্দের অর্থও ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে পিআইও’র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে ৫নং ওয়ার্ডের অংতং পাড়া থেকে ছাংকিং পাড়া পর্যন্ত সড়ক সংস্কার প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের বিপরীতে খাদ্যশস্য হিসেবে ৫ দশমিক ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হলেও স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট সড়কটি অনেক আগেই স্থানীয় উদ্যোগে সংস্কার করা হয়েছিল। এরপরও প্রকল্পের নামে বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি মংক্যথোয়াই মারমা মোবাইল ফোনে প্রকল্পের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কিছু কাজ করা হয়েছে। তবে বিস্তারিত বিষয়ে সরাসরি কথা বললে ভালো হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তারাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তবে বরাদ্দের পরিমাণ সম্পর্কে অবগত নন। স্থানীয়দের দাবি, গত দুই অর্থবছরে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে অন্তত ৩০ লাখ টাকার অনিয়ম ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। পিআইওর বিরুদ্ধে দূর্নীতির ফর্দ-তো দিন দিন বাড়ছেই। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিলটন দস্তিদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়। পরে নেটওয়ার্ক সমস্যার কথা বলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজমিন আলম তুলি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও কমিশন গ্রহণের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ শুনেছি। তবে এখনো কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে আসেননি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।