শিরোনাম
স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তায় সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি মাটিরাঙ্গা সেনা জোনেরখাগড়াছড়ির দীঘিনালায় শিক্ষার্থীদের মাঝে জোনের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণলামায় কৃষিপণ্য মার্কেটিং চ্যালেঞ্জ সমাধানে করণীয় বিষয়ক এ্যাডভোকেসী সভাজনগণের ভোগান্তি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না: ভুমি প্রতিমন্ত্রীকাপ্তাইয়ে সাংবাদিকদের নিয়ে জেন্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিতপার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ, রাজনীতিতে ও উন্নয়নে হতাশ রাঙ্গামাটিবাসীওবান্দরবনের থানচির সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করায় ৪৭ খুমী নাগরিক আটকবন্যপ্রানী সুরক্ষায় কাপ্তাইয়ে প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ‘রাখিব চারপাশ পরিষ্কার, করিব ডেঙ্গু প্রতিকার’ কাপ্তাইয়ে সচেতনামূলক র‌্যালিMostbet Bonusları: Cashback’ın Təsiri, Pulsuz Dönüşlər və Kampaniyalar

নির্মাণের ফাইল বন্ধী থাকায় কাপ্তাইয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের ঝুলন্ত সেতু

২৩

॥ মোঃ কবির হোসেন, কাপ্তাই ॥
সেতু নির্মাণের বিষয়টি যখন ফাইল বন্ধী হয়ে পড়ে আছে তখন এলাকার সাধারন মানুষ সেচ্ছাশ্রমে দীর্ঘ বছর ধরেই রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ২ নম্বর রাইখালী ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ডের নারানগিরির ভাঙা সেতুটি পাহাড়ি-বাঙালি মিলেই বাঁশের ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করে আসছে। সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার সময় হলে কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেরাই আবারো সেচ্ছাশ্রম দিয়ে তৈরী করে নেন।

নারানগিরি পাড়ায় ১৫০টি পরিবার বসবাস করে। যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন ছিল নারানগিরি খালের উপর একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো। এ সাঁকো ব্যবহার করে এলাকার শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মন্দির, প্যাগোডায় যায়। বিভিন্ন পেশাজীবিরা তাদের কর্মস্থলে যায়। রাইখালী বাজারে যেতে এই সাঁকোটি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া অসুস্থ, মুমূর্ষু রোগী ও গর্ববতী মা বোনরা ডাক্তারের কাছে ও হাসপাতালে যাতায়াত করতে এই সাঁকোটি ব্যবহার করেন। এবার এলাকার সবাই মিলে তাই করলেন।

সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, বর্ষা মৌসুম যখন আসে প্রতিবছর উজান হতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এই সাঁকোটি কর্ণফুলি নদীতে তলিয়ে যায়। বছরের পর বছর সরকারের কাছে আবেদন করেও এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় এলাকাবাসী হতাশ প্রকাশ করেছে। অবশেষে উপায়ান্ত না দেখে এলাকাবাসী বিগত ১৫ দিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি করলেন একটি বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে অস্থায়ী ঝুলন্ত সেতু। যা গত মঙ্গলবার (২৬ মে) সমাপ্ত হয়।এলাকার শিক্ষক মোঃ রাশেদ বসবাসকারী, মোঃ মানিক, মোঃ লোকমান, পুলু মারমা এবং এলাকার কারবারি সুইথি মং মারমার জানান, আমাদের পাড়াবাসীর দু:খ এই সাঁকোটি। জরাজীর্ণ সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা চলাচল করে আসছি বছরের পর বছর। বিশেষ করে স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যখন এই সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যায়, তখন অজানা আশংকা ভর করে, কখন জানি তাঁরা খালে পড়ে যায়।

এছাড়া অসুস্থ, মুমূর্ষু রোগী ও গর্ববতী মা বোনরা ডাক্তারের কাছে ও হাসপাতালে যাতায়াত করতে এই সাঁকোটি ব্যবহার করে। এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে চলালচ করার সময় অনেক শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধরা সাঁকোর নিচে পরে আহত হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। বর্ষাকাল আসলে তখন খালের স্রোতে সাঁকোটি ভেসে যায়। বিগত সরকারের নিকট একাধীকবার বলার পরও সেতুটি নির্মাণ না করায় এলাকার পাড়াবাসী বিগত ১৫ দিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমেই নিজেদের আর্থিক সহযোগিতায় নিজেরাই তৈরী কওে আসছিলেন। এবারও গত মঙ্গলবার অস্থায়ীভাবে পারাপারের ঝুলন্ত এই সেতুটি নির্মাণ করে। সরকারের কাছে একটাই দাবি এই খালের উপর একটি স্থায়ী সেতু হউক। তাহলে আমাদের দু:খ লাগব হবে।

২ নম্বর রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মংক্য মারমা জানান, সাঁকোটি জরাজীর্ণ হওয়ায় এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ হতে একাধিকবার এই একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমিও চাই এখানে একটি স্থায়ী সেতু হউক।

কাপ্তাই উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরে এই খালের উপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাবটি পাস হয়ে আছে, অচিরেই টেন্ডার প্রক্রিয়ার আমরা যাবো। আশা করছি পরবর্তী অর্থ বছরের শুরুতেই এর নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারবো।