শিরোনাম
সরকারি মাতামুহুরী কলেজের শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবিতে ৭২ ঘন্টার আলটিমেটামখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ওএমএসের পন্য বিক্রি শুরুখাগড়াছড়ির রামগড়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিজিবির মানবিক সহায়তারাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে সরকারী নির্দেশ অমান্য করে ঋণের কিস্তি আদায়রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে ৩৮ বোতল দেশীয় কেয়ারু মদ জব্দলামায় জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিতসরকারের প্রধান লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা: দীপেন দেওয়ানকফি ও কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ জরুরিপার্বত্য এলাকার উন্নয়নে সরকারের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালঅবশেষে দুই দিন পর কাপ্তাই হ্রদেই মিলল ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতির মরদেহ

নির্মাণের ফাইল বন্ধী থাকায় কাপ্তাইয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের ঝুলন্ত সেতু

২৪

॥ মোঃ কবির হোসেন, কাপ্তাই ॥
সেতু নির্মাণের বিষয়টি যখন ফাইল বন্ধী হয়ে পড়ে আছে তখন এলাকার সাধারন মানুষ সেচ্ছাশ্রমে দীর্ঘ বছর ধরেই রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ২ নম্বর রাইখালী ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ডের নারানগিরির ভাঙা সেতুটি পাহাড়ি-বাঙালি মিলেই বাঁশের ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করে আসছে। সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার সময় হলে কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেরাই আবারো সেচ্ছাশ্রম দিয়ে তৈরী করে নেন।

নারানগিরি পাড়ায় ১৫০টি পরিবার বসবাস করে। যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন ছিল নারানগিরি খালের উপর একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো। এ সাঁকো ব্যবহার করে এলাকার শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মন্দির, প্যাগোডায় যায়। বিভিন্ন পেশাজীবিরা তাদের কর্মস্থলে যায়। রাইখালী বাজারে যেতে এই সাঁকোটি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া অসুস্থ, মুমূর্ষু রোগী ও গর্ববতী মা বোনরা ডাক্তারের কাছে ও হাসপাতালে যাতায়াত করতে এই সাঁকোটি ব্যবহার করেন। এবার এলাকার সবাই মিলে তাই করলেন।

সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, বর্ষা মৌসুম যখন আসে প্রতিবছর উজান হতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এই সাঁকোটি কর্ণফুলি নদীতে তলিয়ে যায়। বছরের পর বছর সরকারের কাছে আবেদন করেও এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় এলাকাবাসী হতাশ প্রকাশ করেছে। অবশেষে উপায়ান্ত না দেখে এলাকাবাসী বিগত ১৫ দিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি করলেন একটি বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে অস্থায়ী ঝুলন্ত সেতু। যা গত মঙ্গলবার (২৬ মে) সমাপ্ত হয়।এলাকার শিক্ষক মোঃ রাশেদ বসবাসকারী, মোঃ মানিক, মোঃ লোকমান, পুলু মারমা এবং এলাকার কারবারি সুইথি মং মারমার জানান, আমাদের পাড়াবাসীর দু:খ এই সাঁকোটি। জরাজীর্ণ সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা চলাচল করে আসছি বছরের পর বছর। বিশেষ করে স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যখন এই সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যায়, তখন অজানা আশংকা ভর করে, কখন জানি তাঁরা খালে পড়ে যায়।

এছাড়া অসুস্থ, মুমূর্ষু রোগী ও গর্ববতী মা বোনরা ডাক্তারের কাছে ও হাসপাতালে যাতায়াত করতে এই সাঁকোটি ব্যবহার করে। এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে চলালচ করার সময় অনেক শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধরা সাঁকোর নিচে পরে আহত হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। বর্ষাকাল আসলে তখন খালের স্রোতে সাঁকোটি ভেসে যায়। বিগত সরকারের নিকট একাধীকবার বলার পরও সেতুটি নির্মাণ না করায় এলাকার পাড়াবাসী বিগত ১৫ দিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমেই নিজেদের আর্থিক সহযোগিতায় নিজেরাই তৈরী কওে আসছিলেন। এবারও গত মঙ্গলবার অস্থায়ীভাবে পারাপারের ঝুলন্ত এই সেতুটি নির্মাণ করে। সরকারের কাছে একটাই দাবি এই খালের উপর একটি স্থায়ী সেতু হউক। তাহলে আমাদের দু:খ লাগব হবে।

২ নম্বর রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মংক্য মারমা জানান, সাঁকোটি জরাজীর্ণ হওয়ায় এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ হতে একাধিকবার এই একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমিও চাই এখানে একটি স্থায়ী সেতু হউক।

কাপ্তাই উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরে এই খালের উপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাবটি পাস হয়ে আছে, অচিরেই টেন্ডার প্রক্রিয়ার আমরা যাবো। আশা করছি পরবর্তী অর্থ বছরের শুরুতেই এর নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারবো।