বছর পার না হতেই ৪ নার্সের বদলিতে বরকলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত
॥ বরকল উপজেলা প্রতিনিধি ॥
রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের এক বছর পূর্ণ হতে না হতেই ৪ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সকে একযোগে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্গম এই পাহাড়ি এলাকায় যেখানে এমনিতেই চিকিৎসক ও নার্স সংকট সেখানে এই গণ-বদলির আদেশে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও চিকিৎসা সেবা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর বরকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছিলেন সুপ্রিয়া দে চৈতী(ইউআইডি:২০২৫০৯৩৯৬১,ফাতেমা আক্তার (ইউআইডি:২০২৫০৯৩১৯৯১), আফসানা আক্তার আশা (ইউআইডি:২০২৫০৯৩২০২১) ও কেয়া আক্তার (ইউআইডি:২০২৫০৯৩২১০১) এই চার সিনিয়র নার্স। কিন্তু মাত্র সাত মাসের মাথায় তাঁদের অন্য জেলা বা উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দুর্গম এলাকায় বা সমতলের যেকোনো কর্ম এলাকায় নির্দিষ্ট সময় (২-৩বছর) অতিবাহিত করার কথা থাকলেও, এক বছর শেষ হওয়ার আগেই এই আদেশ আসায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
দেখা গেছে, বর্তমানে বরকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নামমাত্র জনবল নিয়ে চলছে। নতুন এই ৪ জনের বদলির ফলে নার্সিং সেবা চরমভাবে বিঘিœত হওয়ার পথে। যেমন: বিভাগীয় সংকট: প্রসূতি সেবা, জরুরি বিভাগ এবং ইনডোর রোগীদের ইনজেকশন ও ড্রেসিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এখন সীমিত সংখ্যক নার্সের ওপর নির্ভর করছে। আর দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবা প্রত্যাশী রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বরকল উপজেলাটি একটি অনুন্নত এলাকা। এখানে যাতায়াত ব্যবস্থা কঠিন হওয়ায় মানুষ এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপরই নির্ভরশীল। একের পর এক নার্স বা চিকিৎসক বদলি হয়ে গেলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? তারা এই বদলি আদেশ স্থগিত করে জনবল বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক সূত্র জানায়, বদলি একটি সরকারি প্রক্রিয়া।তবে একযোগে এতজন দক্ষ নার্স চলে গেলে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হবে—এ কথা স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সূত্র আরও জানায়, এই বদলি প্রক্রিয়ায় পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের তোয়াক্কা করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, পার্বত্য জেলাগুলোতে কর্মরত কোনো চিকিৎসক বা নার্স বদলি হতে চাইলে আগে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাবর আবেদন করতে হয়। উপজেলা পর্যায় থেকে সেই আবেদন জেলার সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়। সিভিল সার্জন যাচাই-বাছাই ও সুপারিশসহ তা পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তর করেন।সর্বশেষ জেলা পরিষদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বদলি আদেশ কার্যকর হয়। বদলি আদেশপ্রাপ্ত ওই চার সিনিয়র নার্স নির্ধারিত এই প্রশাসনিক ধাপগুলো অনুসরণ না করে সরাসরি অনলাইনে বদলির আবেদন করেছেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে সরাসরি আবেদনের এই বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা মনে করছেন, এতে চেইন অফ কমান্ড লঙ্ঘিত হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে দ্রুত সমাধানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।