শিরোনাম
যৌতুক ও মাদক সমাজের জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীরাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় অটো চালককে হত্যা চেষ্টা সহ ২ লাখ টাকা ছিনতাইঊনিশ বছর আমাদের উপর অমানুষিক নির্যাতন ও নিপীড়ণ চালানো হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালরাঙ্গামাটির লংগদুতে সেনা জোনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালনক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঘুরে দাঁড়াতে কৃষি প্রণোদনা পেলেন মাটিরাঙ্গার নয়শত কৃষকখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সেনা জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবাকাপ্তাই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জেলা পরিষদের চাল বিতরণ শুরুভিয়েতনামী লংগান চাষ করে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সফল প্রিয়দর্শী চাকমাখাগড়াছড়ির রামগড়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগীতাবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে পিসিপি থানা শাখার ১৮ তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বান্দরবনের লামায় রাতের গভীরে বালু পাচারের সময় স্থানীয়দের হাতে ডাম্পার আটক

২৩

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক, লামা ॥
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বড়ছনখোলা এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। ফলে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার এবং হুমকির মুখে পড়েছে এই বালু ঘাটের পার্শ্ববর্তী খাল পাড় ও ফসলি জমি। বছরের পর বছর ধরে নিয়ম উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বালু তুললেও ভয়ে মুখ খুলতে কেউ সাহস পায়না। বড়ছনখোলা এলাকায় বিভিন্ন পয়েন্টে মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ। যত্রতত্র ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করায় আতঙ্কে এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করলেও কোনো কাজে আসছে না বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ফাঁসিয়াখালি ইউনিয়নের বড়ছনখোলা বাজারের পাশে জনৈক জামাল উদ্দিন পাহাড়ে সেলু মেশিন দিয়ে পানি ঢেলে পাহাড় ধসিয়ে বালু উত্তোলনের করছে। ফলে হুমকিতে পড়েছে খালের দু’পাশের বাড়ি, রাস্তা, ব্রিজ, পাহাড়সহ ফসলি জমি। ইতিমধ্যে এইসব বালুখেকোদের কারণে বড়ছনখোলা এলাকার একটি রড় ব্রিজ ধসে পড়ে গেছে। এতেও ক্ষান্ত হয়নি তারা।

এদিকে কুমারী ৪নং ওয়ার্ডের চাককাটা, পেতাইন্নাছড়া, ২নং ওয়ার্ডের হারগাজা, কুরুকপাতা ঝিরি, ১নং ওয়ার্ডের সাপেরঘারা, বাইশারী ছড়া, ৩নং ওয়ার্ডের বগাইছড়ি, মালুম্যা, কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করছে কযেকটি সিন্ডিকেট। দূর্বল আইন প্রয়োগের কারণে দিনে দিনে বালু উত্তোলন বাড়ছে।

জানা যায়, জামাল উদ্দিন বিগত সরকারের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা। আওয়ামী লীগ নেতা আরো কিছু লোকজন নিয়ে সিন্ডিকেট করে পাহাড় ও খালের বিভিন্ন পয়েন্টে মেশিন দিয়ে অবাধে বালু তুলে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা করছেন। বালু ব্যবসায়ীর এই চক্রটি দীর্ঘদিন যাবত খাল থেকে প্রতিদিন বালু তুলছে। এসব বালু বিক্রি করছে বিভিন্ন এলাকায়। বালু তোলার ফলে ফাঁসিয়াখালি ইউনিয়ন সরকারের কোটি টাকার উন্নয়ন হুমকির মুখে। অত্র এলাকার কয়েকজন জানায়, দিতেরাতে বালু পাচার হচ্ছে। বড়ছনখোলা থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে শতাধিক ট্রাক বালু পাচর হয়।

এ বিষয়ে অবৈধ বালু ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন বলেন, আমি আমার জায়গা থেকে বালু তুলছি, কে কি বলবে। বালু ব্যবসা করব নাতো কি করব ? আমরা টুকটাক ব্যবসা করি। জামাল উদ্দিন স্থানীয় লোকজনকে বলে বেড়ান লামা থানার ওসি সহ সরকারি অনেক কর্মকর্তা তার পকেটে। তাকে কেউ কিছু করতে পারবেনা।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) লামা এবং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের প্রশাসক রুবায়েত আহমেদ বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্সে আছে। আমরা ইতোমধ্যে ফাঁসিয়াখালির বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করেছি। সামনেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর ধারা ৫ এর ১ উপধারা অনুযায়ী পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। ধারা ৪ এর (খ) অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা হলে অথবা আবাসিক এলাকা থেকে সর্বনিম্ন এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উত্তোলনের পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হবে। অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।