শিরোনাম
সরকারি মাতামুহুরী কলেজের শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবিতে ৭২ ঘন্টার আলটিমেটামখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ওএমএসের পন্য বিক্রি শুরুখাগড়াছড়ির রামগড়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিজিবির মানবিক সহায়তারাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে সরকারী নির্দেশ অমান্য করে ঋণের কিস্তি আদায়রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে ৩৮ বোতল দেশীয় কেয়ারু মদ জব্দলামায় জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিতসরকারের প্রধান লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা: দীপেন দেওয়ানকফি ও কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ জরুরিপার্বত্য এলাকার উন্নয়নে সরকারের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালঅবশেষে দুই দিন পর কাপ্তাই হ্রদেই মিলল ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতির মরদেহ

বান্দরবনের রোয়াংছড়িতে মাশরুম চাষে সফল উদ্যোক্তা শান্তি রাণী ত্রিপুরা

১৮

॥ হ্লাছোহ্রী মারমা, রোয়াংছড়ি ॥
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার ৪নং নোয়াপতং ইউনিয়নের অন্তাহা পাড়া এলাকার শান্তি রাণী ত্রিপুরা সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলেছেন আয়বর্ধক প্রতিষ্ঠান মাশরুম চাষ। দীর্ঘদিন ধরে পুরোদমে কঠোর পরিশ্রম করে চলছে শান্তি রাণী ত্রিপুরা (৪৩)। রোয়াংছড়ি উপজেলা আন্তাহা পাড়া এলাকায় স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে-দু:খে দিন যাচ্ছিল। তারপরও নিজের ভেতরে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন লালন করে রেখেছে। সংসারের ব্যস্ততার পাশাপাশি নিজে কিছু করা আগ্রগ্রহ থেকে শুরু করেন মাশরুম চাষ। আর এতেই সফলতার মুখ দেখছেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে নিজে কিছু করার বাসনা থাকলেও আর্থিক অস্বচ্ছলতা কারণে সময়ে স্বপ্ন পূরণে উদ্যোগী হলেও নিরুপায় আর্থিক অভাবে ছিলেন। শান্তি রাণী ত্রিপুরা তিনি স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে বিভিন্ন জায়গা থেকে মাশরুমের বীজ সংগ্রহ করেন। এর আগে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ ঘরে মাশরুম চাষ শুরু করেন। ৫শ বীজ নিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তার কাছে হাজার স্পন রয়েছে। প্রতি কেজি মাশরুম বিক্রি করছেন ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ টাকা। এসব মাশরুম চাষে ফলন ভালো হলে বিক্রি করে প্রতিমাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার আয় হতে পারেন। তবে আমার ইচ্ছে থাকলেও আর্থিক সমস্যার কারণে সময় মতো মাশরুম চাষ করা সম্ভব হয়ে উঠে না। তারপরও কম্পোজ তৈরি করে রাখা হয়, যখন লাগে তখন যেন পাওয়া যায়। সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সহযোগিতা পেলে বাণিজ্যিক আকারে মাশরুম চাষ করতে পারতাম। এখন মাশরুম উৎপাদন করা উপযোগী সময় বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন “আড়ং এগ্রো” এর নামে মাশরুম ঘরে বর্তমানে সাদা এবং ছাই রঙের মাশরুম চাষ করা হচ্ছে। উৎপাদনের ২০দিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই মাশরুম ফলন পাওয়া যায়।

উদ্যোক্তা শান্তি রাণী ত্রিপুরা এর স্বামী শক্তিমনি ত্রিপুরা বলেন, স্বামী শক্তিমনি ত্রিপুরা একজন কৃষক। কিন্তু স্বামীর একক আয় দিয়ে দুই সন্তান নিয়ে সংসারে তেমন স্বচ্ছলতা ছিল না। আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়াই মনের মতো কাজ করা অসম্ভব। আমার স্ত্রী স্থানীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরী এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে নিজে কিছু একটা করা ইচ্ছে, এসব করা উদ্যোগ নিয়েছে। সবশেষ গত বছর থেকে এই উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য কাজে নেমেছে। মাশরুম চাষ হচ্ছে একটি লাভজনক ও বাণিজ্যিক করা সহজ পদ্ধতি। তবে যতœ নিলে সারা বছর কমবেশি ফলন পাওয়া যায়। কিন্তু বীজের অভাবে মাশরুম চাষ করতে পারছে না। অধিকাংশ চাষিরা বাইরে থেকে বীজ সংগ্রহ করে চাষ করছেন। তাঁর স্বামী জানান, স্থানীয় বেসরকারি সংস্থানের চাকুরী করে যা বেতন পাই, তা নিয়ে মাশরুম স্পন করার সময় প্রায় কয়েক জন নারী শ্রমীককে বেতন দিয়ে চাষে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তিনি আরো বলেন, কর্মর শ্রমিকরা এখানে পুরো মাসজুড়ে মাশরুম চাষে সময় দিচ্ছি। এতে যা পাই তা দিয়ে সংসার চলতে পারে তাদের। বর্তমানে আমার স্ত্রীকে দেখে অনেকে মাশরুম চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

রোয়াংছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ব্লকের দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উবাচিং মারমা বলেন, সবজি হিসেবে মানুষের মধ্যে মাশরুম এখন বেশ জনপ্রিয়। বাজারে এটির চাহিদাও অনেক। অনেকের মত শান্তি রাণী ত্রিপুরা মাশরুম চাষ উদ্যোগ নিয়েছে শোনে ভালো লাগছে। একজন নারী কাজ অনুকরণীয় হবে। উনার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে।